Vivo iQOO Z11i রিভিউ: ৬৫০০ mAh ব্যাটারি ও মিলিটারি গ্রেড সুরক্ষার বাজেট ৫জি ফোন!

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে স্মার্টফোন এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং একটি বড় প্রয়োজন। বিশেষ করে যারা সারাদিন বাইরে কাজ করেন, তাদের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারির ফোন খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। ঠিক এই জায়গাতেই বাজিমাত করতে চলেছে ব্র্যান্ড আইকু (iQOO)।

সম্প্রতি গ্লোবাল টেক মিডিয়া জিএসএমঅ্যারেনা (GSMArena) তাদের একটি রিপোর্টে জানিয়েছে যে, ভিভোর সাব-ব্র্যান্ড আইকু তাদের জেড সিরিজের নতুন সদস্য Vivo iQOO Z11i ফোনটির টিজার প্রকাশ করেছে।

স্মার্টফোন কোম্পানিটি চীনের বাজারে এই ফোনটির ডিজাইন এবং কালার ভেরিয়েন্ট উন্মোচন করেছে।

আপনি যদি কম বাজেটে চমৎকার ব্যাকআপ এবং একটি টেকসই ৫জি (5G) ফোন খুঁজে থাকেন, তবে এই লেখাটি আপনার জন্য।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এই নতুন বাজেট ফোনটিতে আমাদের জন্য কী কী থাকছে।

Vivo iQOO Z11i স্পেসিফিকেশন ও চমৎকার ডিজাইন

জিএসএমঅ্যারেনার তথ্য অনুযায়ী, এই ফোনটি দেখতে বেশ আধুনিক এবং প্রিমিয়াম লুকের।

কোম্পানিটি ফোনটিকে মূলত তিনটি আকর্ষণীয় রঙে বাজারে আনছে। রংগুলো হলো— গ্রিন পিক (Green Peak), ডেজার্ট গোল্ড (Desert Gold) এবং ইঙ্ক শ্যাডো (Ink Shadow)।

ফোনটির পেছনের অংশে ফ্ল্যাট ফ্রেম এবং ডুয়াল ক্যামেরা মডিউলের চমৎকার কম্বিনেশন দেখা যায়।

টেকপাড়ার নির্ভরযোগ্য লিকস বা তথ্যমতে, এই ফোনটি মূলত গত এপ্রিল মাসে বাজারে আসা ভিভো ওয়াই৬০ (Vivo Y60) মডেলটির একটি রিব্র্যান্ডেড সংস্করণ।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, একই ফোনকে কিছুটা নতুন রূপ দিয়ে আইকু ব্র্যান্ডের অধীনে আনা হচ্ছে।

এতে প্লাস্টিক ফ্রেম ব্যবহার করা হলেও এর বিল্ড কোয়ালিটি বেশ মজবুত।

iQOO Z11i specs: কেমন এই ডিসপ্লে এবং পারফরম্যান্স?

এই ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে একটি ৬.৭৪ ইঞ্চির এলসিডি (LCD) টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে।

এতে থাকছে ১২০ হার্জ (120Hz) রিফ্রেশ রেট, যা আপনার স্ক্রল করার অভিজ্ঞতাকে করবে অনেক মসৃণ।

তবে ফোনটির রেজোলিউশন HD+ অর্থাৎ ৭২০x১৬০০ পিক্সেল।

ফুল এইচডি প্লাস না হওয়ায় ভিডিও দেখার সময় কিছুটা আপস করতে হতে পারে, যা এই বাজেটের একটি মাইনাস পয়েন্ট।

তবে রোদের মধ্যে ফোন ব্যবহারে যেন সমস্যা না হয়, সেজন্য এতে ১২০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে তীব্র সূর্যের আলোতেও স্ক্রিনের লেখা বা ছবি বেশ পরিষ্কার দেখা যাবে।

পারফরম্যান্সের জন্য Vivo iQOO Z11i ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন ৪ জেন ২ (Snapdragon 4 Gen 2) চিপসেট।

এটি একটি ৪ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির প্রসেসর, যা বেশ ব্যাটারি সাশ্রয়ী।

দৈনন্দিন সাধারণ কাজ যেমন ফেসবুকিং, ইউটিউব দেখা বা ব্রাউজিং করার জন্য এই চিপসেট দারুণ কাজ করবে।

ফোনটিতে ৬ জিবি এবং ৮ জিবি র‍্যামের পাশাপাশি ১২৮ জিবি ও ২৫৬ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ সুবিধা পাওয়া যাবে।

ফাস্ট স্টোরেজ হিসেবে এতে UFS 3.1 প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা অ্যাপ ওপেন বা ডাটা ট্রান্সফারের গতি বাড়িয়ে দেয়।

তবে আপনি যদি পাবজি বা ফ্রি ফায়ারের মতো ভারী গেমার হন, তবে এই ফোনটি আপনাকে খুব বেশি সন্তুষ্ট করতে পারবে না।

সাধারণ গ্রাফিক্সে এই গেমগুলো খেলা গেলেও দীর্ঘক্ষণ খেললে কিছুটা হিটিং বা ফ্রেম ড্রপ দেখা দিতে পারে।

৬৫০০ এমএএইচ ব্যাটারি ফোন: আসল মাস্টারস্ট্রোক

এই স্মার্টফোনটির সবচেয়ে বড় এবং আসল আকর্ষণ হলো এর বিশাল ব্যাটারি লাইফ।

এতে দেওয়া হয়েছে একটি ৬৫০০ mAh মেগা ব্যাটারি।

বর্তমান বাজারে যেখানে বেশিরভাগ ফোনেই ৫০০০ mAh ব্যাটারি থাকে, সেখানে এই ফোনটি অনেক এগিয়ে।

একবার ফুল চার্জ দিলে সাধারণ ব্যবহারে অনায়াসে ২ থেকে ৩ দিন পার করে দেওয়া সম্ভব।

বিশেষ করে রাইড শেয়ারিং চালক বা ডেলিভারি কর্মীদের জন্য এই ৬৫০০ এমএএইচ ব্যাটারি ফোন একটি আশীর্বাদ হতে পারে।

কারণ তাদের সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয় এবং বারবার পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহারের ঝামেলা পোহাতে হয়।

তবে এই বিশাল ব্যাটারির সাথে চার্জিং স্পিড দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৫ ওয়াট (15W)।

এর মানে হলো, ফোনটি সম্পূর্ণ ফুল চার্জ হতে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লেগে যাবে।

ধৈর্য ধরে রাতে ঘুমানোর সময় চার্জে বসিয়ে রাখাটাই হবে এই ফোনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

ক্যামেরা কোয়ালিটি এবং অন্যান্য ফিচার

বাজেট ফোন হওয়ায় ক্যামেরা সেকশনে কোম্পানি কিছুটা কাটছাঁট করেছে।

এর পেছনে রয়েছে একটি ১৩ মেগাপিক্সেল মেইন ক্যামেরা এবং সামনে রয়েছে ৫ মেগাপিক্সেল সেলফি লেন্স।

দিনের আলোতে বা ভালো লাইটিংয়ে ১৩ এমপি ক্যামেরা দিয়ে মোটামুটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করার মতো ছবি তোলা সম্ভব।

কিন্তু কম আলোতে বা রাতের বেলা ছবির ডিটেইলস বেশ কমে যায় এবং কিছুটা নয়েজ দেখা দেয়।

৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা দিয়ে জরুরি ভিডিও কল বা সাধারণ সেলফি তোলার কাজ চালানো যাবে।

সফটওয়্যারের দিক থেকে ফোনটিতে অ্যান্ড্রয়েড ১৬ এর ওপর ভিত্তি করে অরিজিনওএস ৬ (OriginOS 6) ইউজার ইন্টারফেস দেখা যেতে পারে।

তবে এটি যেহেতু প্রাথমিকভাবে চীনের বাজারের জন্য তৈরি, তাই গ্লোবাল বা বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের গুগল প্লে স্টোর ব্যবহারের জন্য কিছুটা কাস্টমাইজেশন করে নিতে হতে পারে।

অতিরিক্ত ফিচার হিসেবে এই ফোনে রয়েছে মিলিটারি গ্রেডের শকপ্রুফ সার্টিফিকেশন (SGS)।

এর মানে হলো, হাত থেকে অসাবধানতাবশত পড়ে গেলেও ফোনটির সহজে ক্ষতি হবে না।

ধুলোবালি এবং পানির ছিটকে লাগা থেকে বাঁচাতে এতে আইপি৬৫ (IP65) রেটিং দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি সিকিউরিটির জন্য সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং গান শোনার জন্য ৩.৫ এমএম অডিও জ্যাকের সুবিধাও থাকছে।

আইকু জেড ১১ আই এর দাম এবং বাজার প্রতিযোগিতা

এখনো এই ফোনটি অফিশিয়ালি বাংলাদেশের বাজারে পা রাখেনি।

তবে iQOO Z11i price বা আইকু জেড ১১ আই এর দাম চীনের বাজারের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে আনুমানিক ১২,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে।

এই বাজেটে রেডমি বা রিয়েলমির অনেক ফোন থাকলেও, এত বড় ব্যাটারি এবং শকপ্রুফ বডি অন্য কোনো ব্র্যান্ডে পাওয়া কঠিন।

iQOO Z11i review Bangla: প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

প্রশ্ন ১: Vivo iQOO Z11i কি অফিশিয়ালি বাংলাদেশে পাওয়া যায়?

উত্তর: না, ফোনটি এখনো অফিশিয়ালি বাংলাদেশে লঞ্চ হয়নি, এটি প্রথমে চীনে লঞ্চ হচ্ছে।

প্রশ্ন ২: এই ফোনের ৬৫০০ mAh ব্যাটারি ফুল চার্জ হতে কত সময় নেয়?

উত্তর: ১৫ ওয়াট চার্জার হওয়ায় ফুল চার্জ হতে প্রায় ২.৫ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

প্রশ্ন ৩: iQOO Z11i দিয়ে কি পাবজি (熟) বা ফ্রি ফায়ার ভালো খেলা যাবে?

উত্তর: সাধারণ বা মিডিয়াম সেটিংসে খেলা যাবে, তবে এটি কোর গেমিং ফোন নয়।

প্রশ্ন ৪: এই ফোনে কি মেমোরি কার্ড বা এসডি কার্ড ব্যবহার করা যাবে?

উত্তর: হ্যাঁ, ডেডিকেটেড বা হাইব্রিড স্লটের মাধ্যমে স্টোরেজ বাড়িয়ে নেওয়ার সুবিধা থাকবে।

প্রশ্ন ৫: এই ফোনটি কি আসলেই ওয়াটারপ্রুফ?

উত্তর: এটি সম্পূর্ণ ওয়াটারপ্রুফ নয়, তবে IP65 রেটিং থাকায় হালকা পানির ঝাপটা বা বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাবে।

প্রশ্ন ৬: iQOO Z11i এবং Vivo Y60 এর মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

উত্তর: এদের ইন্টারনাল স্পেসিফিকেশন প্রায় একই, শুধু ব্র্যান্ডিং এবং পেছনের কালার ডিজাইনে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে।

প্রশ্ন ৭: ফোনটির ডিসপ্লে কি রোদের আলোতে পরিষ্কার দেখা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ, এর ১২০০ নিটস পিক ব্রাইটনেসের কারণে রোদের মধ্যেও স্ক্রিন বেশ পরিষ্কার দেখা যায়।

প্রশ্ন ৮: এই ফোনে কি ৫জি (5G) নেটওয়ার্ক সাপোর্ট করে?

উত্তর: হ্যাঁ, স্ন্যাপড্রাগন ৪ জেন ২ চিপসেট থাকায় এটি একটি সাশ্রয়ী ৫জি স্মার্টফোন।

প্রশ্ন ৯: এর ৫ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা কেমন পারফর্ম করে?

উত্তর: এটি খুবই সাধারণ মনের ক্যামেরা, যা কেবল ভিডিও কল এবং সাধারণ সেলফির জন্য উপযোগী।

প্রশ্ন ১০: দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের জন্য এই ফোনটি কেনা কি ঠিক হবে?

উত্তর: আপনার যদি মূল ফোকাস হয় দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ এবং মজবুত বডি, তবে এটি একটি সেরা চয়েস হতে পারে।

Conclusion

পরিশেষে বলা যায়, Vivo iQOO Z11i ফোনটি সবার জন্য তৈরি করা হয়নি।

এর ডিসপ্লে রেজোলিউশন এবং ক্যামেরা কোয়ালিটি খুবই সাধারণ মানের।

কিন্তু আপনি যদি এমন একজন ব্যবহারকারী হন যার ফোনে চার্জ থাকাটা সবচেয়ে জরুরি, তবে এই ফোন আপনাকে হতাশ করবে না।

এর মেগা ব্যাটারি, ৫জি কানেক্টিভিটি এবং টেকসই শকপ্রুফ বডি এই বাজেটে সত্যিই প্রশংসনীয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top