বর্তমান সময়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইন্টারনেট। ফেসবুক চালানো, ইউটিউবে ভিডিও দেখা বা পড়াশোনার প্রয়োজনে ইন্টারনেটের বিকল্প নেই। তবে সমস্যা হয় তখন, যখন ইন্টারনেটের দাম অনেক বেশি থাকে। আপনি যদি একজন এয়ারটেল গ্রাহক হন, তবে আপনার জন্য রয়েছে সুখবর। এয়ারটেল সবসময়ই তাদের গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে দারুণ সব অফার নিয়ে আসে। আজকের এই ব্লগে আমরা আলোচনা করব কিভাবে আপনি এয়ারটেল ইন্টারনেট অফার কম টাকায় কিনতে পারবেন। আমরা এখানে ছোট মেয়াদ থেকে শুরু করে দীর্ঘ মেয়াদী সব অফার নিয়ে বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করব।
কেন এয়ারটেল ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন?
বাংলাদেশে টেলিকম অপারেটরগুলোর মধ্যে এয়ারটেল তাদের তারুণ্যময় ব্র্যান্ডিং এবং সাশ্রয়ী অফারের জন্য পরিচিত। কম দামে বেশি ডেটা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের জুড়ি মেলা ভার। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী এবং যারা নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এয়ারটেল সেরা কিছু ডিল দিয়ে থাকে। এয়ারটেলের নেটওয়ার্ক এখন দেশের প্রায় সব প্রান্তে পৌঁছে গেছে, তাই গতির দিক থেকেও আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।
এয়ারটেল ইন্টারনেট অফার চেক করার উপায়
অফারগুলো জানার আগে আপনাকে জানতে হবে কিভাবে আপনি আপনার নিজের সিমের জন্য অফার চেক করবেন। সবার সিমে সব অফার থাকে না। আপনার জন্য স্পেশাল কোনো অফার আছে কি না তা জানতে নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করুন:
১. ইউএসএসডি কোড: আপনার ফোন থেকে *১২১# ডায়াল করে অফার দেখতে পারেন।
২. মাই এয়ারটেল অ্যাপ: প্লে-স্টোর থেকে My Airtel App ডাউনলোড করে সেখানে লগইন করুন। এখানে আপনি সব থেকে কম দামের অফারগুলো দেখতে পাবেন।
৩. রিচার্জ অফার: নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রিচার্জ করেও অনেক সময় আকর্ষণীয় ইন্টারনেট প্যাক পাওয়া যায়।
এয়ারটেল ছোট মেয়াদী ইন্টারনেট অফার (১ থেকে ৩ দিন)
যাদের হুটহাট ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয় বা অল্প কিছু কাজের জন্য ডেটা দরকার, তারা ছোট মেয়াদী অফারগুলো নিতে পারেন। নিচে কম টাকায় কিছু জনপ্রিয় ছোট মেয়াদী অফার দেওয়া হলো:
১ জিবি ইন্টারনেট অফার
অনেক সময় এয়ারটেল মাত্র ২০-৩০ টাকার মধ্যে ১ জিবি ইন্টারনেট অফার করে থাকে। এর মেয়াদ সাধারণত ৩ দিন হয়ে থাকে। যারা খুব কম ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তাদের জন্য এটি সেরা।
৫০০ এমবি সোশ্যাল প্যাক
ফেসবুক বা মেসেঞ্জার চালানোর জন্য আলাদা করে ছোট প্যাক কেনা যায়। অনেক সময় ৫-১০ টাকায় এই প্যাকগুলো পাওয়া যায়। এর মেয়াদ ১ দিন হয়ে থাকে।
| ডাটার পরিমাণ | মূল্য | মেয়াদ | কোড |
| ১ জিবি | ২৬ টাকা | ৩ দিন | ১২১০২৬# |
| ২ জিবি | ৪২ টাকা | ৩ দিন | ১২১০৪২# |
| ৫০০ এমবি | ১১ টাকা | ১ দিন | ১২১০১১# |
(বিঃদ্রঃ অফারের দাম এবং কোড সময়ভেদে পরিবর্তন হতে পারে। সাম্প্রতিক তথ্যের জন্য মাই এয়ারটেল অ্যাপ দেখুন।)
এয়ারটেল সাপ্তাহিক ইন্টারনেট অফার (৭ দিন)
সাপ্তাহিক অফারগুলো মূলত যারা নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তাদের জন্য। আপনি যদি কম টাকায় বেশি ডেটা চান, তবে সাপ্তাহিক প্যাকগুলো আপনার জন্য আদর্শ হতে পারে।
৫ জিবি ইন্টারনেট অফার
এয়ারটেল মাঝেমধ্যেই ১১৪ বা ১২৯ টাকায় ৫ জিবি পর্যন্ত ইন্টারনেট অফার করে থাকে। এই প্যাকটির মেয়াদ থাকে ৭ দিন। এটি দিয়ে আপনি মোটামুটি ভালোভাবেই ইউটিউব এবং ব্রাউজিং করতে পারবেন।
১০ জিবি ধামাকা অফার
সাপ্তাহিক প্যাকের মধ্যে ১০ জিবি অফারটি বেশ জনপ্রিয়। এর দাম সাধারণত ১৭০ থেকে ১৯০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। যারা গেম খেলেন বা ভিডিও স্ট্রিম করেন, তাদের জন্য এটি সাশ্রয়ী একটি সমাধান।
এয়ারটেল মাসিক ইন্টারনেট অফার (৩০ দিন)
সারা মাস নিশ্চিন্তে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে চাইলে মাসিক অফারের বিকল্প নেই। বারবার রিচার্জ করার ঝামেলা এড়াতে এই প্যাকগুলো সেরা। এয়ারটেল ইন্টারনেট অফার কম টাকায় পেতে মাসিক প্যাকগুলোতে বেশি ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়।
১৫ জিবি ইন্টারনেট প্যাক
সারা মাসের সাধারণ ব্যবহারের জন্য ১৫ জিবি যথেষ্ট। এয়ারটেল এই প্যাকটি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে প্রদান করে। অনেক সময় রিচার্জের মাধ্যমেও এই অফারটি পাওয়া যায়।
৩০ জিবি বা তার বেশি (হেভি ইউজার)
আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং করেন বা দীর্ঘ সময় অনলাইনে থাকেন, তবে ৩০ জিবি বা ৫০ জিবি প্যাক নিতে পারেন। এয়ারটেল অ্যাপ থেকে এই প্যাকগুলো কিনলে অনেক সময় ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়। এতে আপনার খরচ আরও কমে আসে।
| ডাটার পরিমাণ | মূল্য | মেয়াদ | অ্যাক্টিভেশন পদ্ধতি |
| ১০ জিবি | ১৯৯ টাকা | ৩০ দিন | রিচার্জ বা অ্যাপ |
| ২৫ জিবি | ৩৯৯ টাকা | ৩০ দিন | রিচার্জ বা অ্যাপ |
| ৫০ জিবি | ৪৯৯ টাকা | ৩০ দিন | স্পেশাল অফার (অ্যাপ) |
কম টাকায় এয়ারটেল ইন্টারনেট কেনার গোপন টিপস
অনেকেই জানেন না যে কিছু কৌশল ব্যবহার করলে সাধারণ দামের চেয়েও কম দামে ইন্টারনেট কেনা সম্ভব। নিচে কিছু কার্যকরী টিপস দেওয়া হলো:
১. মাই এয়ারটেল অ্যাপ ব্যবহার করুন: অ্যাপের ভেতর ‘My Offer’ সেকশনে গেলে আপনার জন্য নির্দিষ্ট কিছু সস্তা অফার দেখতে পাবেন যা অন্যদের জন্য থাকে না।
২. বান্ডেল অফার কিনুন: শুধু ইন্টারনেট না কিনে মিনিট এবং ইন্টারনেটের কম্বো অফার কিনলে খরচ অনেক কম পড়ে।
৩. ক্যাশব্যাক অফার: বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে রিচার্জ করলে অনেক সময় ১০% থেকে ২০% পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়। এতে ইন্টারনেটের কার্যকর মূল্য অনেক কমে আসে।
৪. শুক্রবার বা বিশেষ দিন: বিভিন্ন ছুটির দিনে বা উৎসবে এয়ারটেল বিশেষ অফার দেয়। সেই সময় প্যাক কিনলে অনেক সাশ্রয় হয়।
এয়ারটেল ফেসবুক ও ইউটিউব প্যাক
আপনি কি শুধু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন? তাহলে আপনার জন্য রেগুলার ইন্টারনেট প্যাকের চেয়ে সোশ্যাল প্যাক কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এয়ারটেল খুব কম টাকায় ফেসবুক এবং ইউটিউব ব্যবহারের জন্য আলাদা প্যাক দিয়ে থাকে।
যেমন, মাত্র ২০-৩০ টাকায় আপনি ১ জিবি ফেসবুক প্যাক পেতে পারেন যার মেয়াদ ৭ দিন পর্যন্ত হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, এই ডেটা দিয়ে আপনি গুগল সার্চ বা অন্য কোনো ওয়েবসাইট ব্রাউজ করতে পারবেন না। এটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট অ্যাপের জন্য প্রযোজ্য।
এয়ারটেল সিমের ব্যালেন্স এবং ডেটা চেক করবেন কীভাবে?
ইন্টারনেট কেনার পর সেটি কতটুকু খরচ হলো তা জানা জরুরি। নিচে প্রয়োজনীয় কিছু কোড দেওয়া হলো:
ইন্টারনেট ব্যালেন্স চেক: আপনার ডেটা কতটুকু বাকি আছে তা জানতে ডায়াল করুন
*৩#।মেইন ব্যালেন্স চেক: আপনার সিমে কত টাকা আছে তা দেখতে ডায়াল করুন
*৭৭৮#।নিজের নম্বর দেখা: আপনার সিমের নম্বর ভুলে গেলে ডায়াল করুন
*২#।
ইন্টারনেট দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার কারণ ও প্রতিকার
অনেকেই অভিযোগ করেন যে এয়ারটেল ইন্টারনেট দ্রুত শেষ হয়ে যায়। আসলে এটি অপারেটরের সমস্যা নয়, বরং আমাদের ফোন ব্যবহারের কিছু ভুলের কারণে হয়।
ডেটা বাঁচানোর কিছু উপায়:
অটো আপডেট বন্ধ রাখা: গুগল প্লে-স্টোরে গিয়ে অ্যাপের ‘Auto Update’ অপশনটি বন্ধ করে রাখুন। এতে অজান্তেই ডেটা খরচ হবে না।
ভিডিও কোয়ালিটি কমানো: ইউটিউব বা ফেসবুকে ভিডিও দেখার সময় কোয়ালিটি অটো না রেখে ৩৬০পি (360p) বা ৪৮০পি (480p) করে দিন।
ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা রেস্ট্রিক্ট করা: ফোনের সেটিংসে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা বন্ধ করে দিন।
ডেটা সেভার মোড: স্মার্টফোনের ‘Data Saver’ মোডটি সবসময় অন রাখুন।
আপনার মনে এয়ারটেল ইন্টারনেট নিয়ে কিছু প্রশ্ন থাকতে পারে। সেগুলোর উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
১. এয়ারটেলের সবচেয়ে সস্তা ইন্টারনেট অফার কোনটি?
বর্তমানে এয়ারটেলের সবচেয়ে সস্তা অফারগুলো সাধারণত মাই এয়ারটেল অ্যাপে পাওয়া যায়। বিশেষ করে রিচার্জের মাধ্যমে ছোট ছোট ডেটা প্যাকগুলো বেশ সস্তা হয়।
২. বন্ধ সিমের জন্য কি কোনো অফার আছে?
হ্যাঁ, আপনি যদি দীর্ঘ দিন আপনার এয়ারটেল সিমটি ব্যবহার না করে থাকেন, তবে সেটি চালু করলে বিশেষ অফার পেতে পারেন। অনেক সময় খুব কম টাকায় কয়েক জিবি ইন্টারনেট দেওয়া হয়।
৩. এয়ারটেল ইন্টারনেট কি দেশের সব জায়গায় পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, এয়ারটেল এবং রবি এখন একই নেটওয়ার্ক শেয়ার করে। ফলে দেশের প্রায় সব জায়গায় আপনি ৪জি (4G) স্পিড পাবেন।
৪. ইন্টারনেট প্যাকের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কি ডেটা পরবর্তী প্যাকে যোগ হবে?
সাধারণত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে একই প্যাক পুনরায় কিনলে অব্যবহৃত ডেটা যোগ হয়। তবে এটি সব প্যাকের জন্য প্রযোজ্য নাও হতে পারে।
আমার শেষ কথা
পরিশেষে বলা যায়, এয়ারটেল ইন্টারনেট অফার কম টাকায় পাওয়ার জন্য আপনাকে নিয়মিত আপডেট থাকতে হবে। সবসময় চেষ্টা করবেন মাই এয়ারটেল অ্যাপ চেক করার এবং বিভিন্ন ক্যাশব্যাক অফারগুলো গ্রহণ করার। এতে আপনার মোবাইল খরচ অনেক কমে আসবে।
আমরা এই আর্টিকেলে চেষ্টা করেছি এয়ারটেলের সব আপডেট এবং সাশ্রয়ী ইন্টারনেট অফারগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরতে। আশা করি এই তথ্যগুলো আপনার কাজে লাগবে। আপনার যদি এয়ারটেল অফার নিয়ে আরও কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন।
নিত্যনতুন অফার এবং টেকনোলজি সম্পর্কিত তথ্য পেতে আমাদের ব্লগের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।
realme c11 দাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য এখানে প্রবেশ করুন।





