বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে সরকার বিভিন্ন সময় নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি কার্যকর কর্মসূচি হলো গ্রামীণ সমাজসেবা (RSS)। অনেক পাঠকই বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বা সাধারণ জ্ঞানের জন্য জানতে চান, গ্রামীণ সমাজসেবা কত সালে চালু হয়?
আমি, নোমান সৈয়দ শামসুল, দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন ও সরকারি প্রকল্পগুলো নিয়ে কাজ করছি। আমার এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা থেকে আজ আপনাদের এই বিষয়ে একদম সঠিক এবং তথ্যবহুল ধারণা দেব।
গ্রামীণ সমাজসেবা কত সালে চালু হয় এবং এর পটভূমি
সরাসরি বলতে গেলে, বাংলাদেশে গ্রামীণ সমাজসেবা কার্যক্রম ১৯৭৪ সালে প্রথম শুরু হয়।
স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সমাজসেবা অধিদপ্তর এই কার্যক্রম হাতে নেয়। শুরুতে এটি দেশের মাত্র ১৯টি থানায় (বর্তমানে উপজেলা) পরীক্ষামূলক বা পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এর সফলতা দেখে ১৯৮৪ সালে এই কার্যক্রমটিকে সরকারের রাজস্ব বাজেটের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
গ্রামীণ সমাজসেবা কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য
আমি আমার কাজের সূত্রে মাঠপর্যায়ে দেখেছি, এই কর্মসূচিটি গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিশিয়াল রেকর্ড ও নীতিমালার আলোকে এই কার্যক্রমের প্রধান উদ্দেশ্যগুলো নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| কার্যক্রমের ক্ষেত্র | মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য |
| সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ | গ্রামীণ দরিদ্র ও ভূমিহীন মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। |
| দক্ষতা উন্নয়ন | হাঁস-মুরগি পালন, গবাদিপশু লালন-পালন ও দর্জি বিজ্ঞানের মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া। |
| সামাজিক সচেতনতা | স্বাস্থ্য, পুষ্টি, স্যানিটেশন এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। |
| নেতৃত্ব তৈরি | গ্রামীণ নারী ও পুরুষদের আলাদা দল গঠনের মাধ্যমে নেতৃত্ব গুণের বিকাশ ঘটানো। |
আমার চোখে গ্রামীণ সমাজসেবার প্রভাব ও বর্তমান অবস্থা
আমার পেশাগত জীবনে আমি বহু গ্রামে গিয়েছি এবং এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সাথে সরাসরি কথা বলেছি। গ্রামীণ সমাজসেবা কার্যক্রমের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো এর ‘সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ’ এবং ‘মহিলা দল’ গঠন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ নারীরা ঘরে বসে আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন।
সরকারি সর্বশেষ তথ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে এই কার্যক্রম দেশের সবকটি উপজেলায় সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এটি কেবল একটি ঋণ দেওয়ার মাধ্যম নয়, বরং গ্রামীণ জনপদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির একটি বড় হাতিয়ার।
আশা করি, গ্রামীণ সমাজসেবা কত সালে চালু হয় এবং এর গুরুত্ব কী, তা আপনারা সহজ ভাষায় বুঝতে পেরেছেন। এই বিষয়ে আপনার কোনো মতামত বা প্রশ্ন থাকলে নিচে মন্তব্য করে আমাকে জানাতে পারেন।
দৈনিক শিক্ষা এমপিও খবর সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য এখানে প্রবেশ করুন।





