বাংলাদেশে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাকআপ পাওয়ারের প্রয়োজন দিন দিন বাড়ছে। বাসাবাড়ির আইপিএস, কম্পিউটার ইউপিএস কিংবা ওয়াইফাই রাউটার সচল রাখতে ১২ ভোল্ট ব্যাটারি একটি অপরিহার্য উপাদান।
নতুন একটি ব্যাটারি কেনার আগে সবার মনে প্রথম যে প্রশ্নটি আসে তা হলো, বর্তমানে বাংলাদেশে 12 ভোল্ট ব্যাটারি দাম কত?
এই আর্টিকেলে আমরা বিভিন্ন অ্যাম্পিয়ার এবং ব্র্যান্ডের ব্যাটারির সর্বশেষ বাজারমূল্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
12v battery price in Bangladesh

12 ভোল্ট ব্যাটারি দাম কত এবং বিভিন্ন অ্যাম্পিয়ারের মূল্য তালিকা
গ্রাহকদের সুবিধার জন্য নিচে বিভিন্ন ধারণক্ষমতার ব্যাটারির একটি আনুমানিক দামের তালিকা দেওয়া হলো।
১২ ভোল্ট ৫ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির দাম ১,২০০ থেকে ১,২৫০ টাকার কাছাকাছি। ১২ ভোল্ট ১২ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির বাজারমূল্য সাধারণত ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকা হয়ে থাকে।
ভারী কাজের জন্য ব্যবহৃত ১২ ভোল্ট ৪০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির দাম প্রায় ১৩,৫০০ টাকা।
অন্যদিকে বড় আইপিএস এর জন্য উপযোগী ১২ ভোল্ট ১০০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির দাম ৩১,৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। সবচেয়ে বড় ১২ ভোল্ট ২০০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির মূল্য বর্তমানে প্রায় ৫৩,৮০০ টাকা।
আইপিএস ব্যাটারির দাম এবং প্রকারভেদ
বাসাবাড়িতে ফ্যান ও লাইট চালানোর আইপিএস-এর জন্য সাধারণ ইউপিএস ব্যাটারির চেয়ে বড় ব্যাটারির প্রয়োজন হয়।
আইপিএস-এর ক্ষেত্রে সাধারণত টিউবুলার ব্যাটারি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় এবং দীর্ঘস্থায়ী হিসেবে পরিচিত।
একটি ভালো মানের ১০০ অ্যাম্পিয়ার থেকে ২০০ অ্যাম্পিয়ার আইপিএস ব্যাটারির দাম ১৫,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫৪,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
টিউবুলার ব্যাটারিগুলো গভীর ডিসচার্জ সহ্য করতে পারে এবং এগুলো ৪ থেকে ৫ বছর অনায়াসে ব্যাকআপ দেয়।
তবে লিড-অ্যাসিড প্রযুক্তির এই ব্যাটারিগুলোতে নিয়মিত নির্দিষ্ট সময় পর পর ব্যাটারির পানি বা ডিস্টিল্ড ওয়াটার চেক করতে হয়।
হ্যামকো ১২ ভোল্ট ব্যাটারি দাম ও নির্ভরযোগ্যতা
বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এবং বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড হলো হ্যামকো।
মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে আইপিএস এবং সোলার সিস্টেমের জন্য হ্যামকো বিভিন্ন রেঞ্জের ব্যাটারি তৈরি করে।
মোটরসাইকেলের জন্য ব্যবহৃত হ্যামকো ১২ ভোল্ট ৫ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির দাম ১,২৫০ টাকার কাছাকাছি।
আবার মাঝারি সাইজের আইপিএস এর জন্য হ্যামকো ৬০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির দাম প্রায় ৯,৯৯০ টাকা।
হ্যামকো ১৩০ অ্যাম্পিয়ার এবং ১৬৫ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির দাম যথাক্রমে ১৭,৫৩০ টাকা এবং ২৩,১১০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।
কোম্পানিটি সাধারণত তাদের বিভিন্ন মডেলের ব্যাটারিতে ১৮ থেকে ২৪ মাসের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি প্রদান করে থাকে।
ড্রাই সেল ব্যাটারি দাম বাংলাদেশ ও সুবিধা
যারা ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার ঝামেলা সম্পূর্ণ এড়াতে চান, তাদের জন্য ড্রাই সেল বা মেইনটেন্যান্স-ফ্রি (SMF) ব্যাটারি সেরা বিকল্প।
বর্তমানে ড্রাই সেল ব্যাটারি দাম বাংলাদেশ এর বাজারে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং গ্রাহকবান্ধব।
এই ব্যাটারিগুলো থেকে কোনো ধরনের এসিড বা গ্যাস লিক হওয়ার ভয় থাকে না।
সাধারণত সিসিটিভি ক্যামেরা, কম্পিউটার ব্যাকআপ ইউপিএস এবং ওয়াইফাই রাউটারে এই ড্রাই সেল ব্যাটারি বেশি ব্যবহৃত হয়।
ব্র্যান্ড এবং কোয়ালিটি ভেদে ছোট ড্রাই সেল ব্যাটারিগুলো ১,০সাশত টাকা থেকে ৩,১৫০ টাকার মধ্যে কেনা সম্ভব।
ব্যাটারি কেনার আগে যে বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা উচিত
ব্যাটারি কেনার সময় কেবল দামের দিকে না তাকিয়ে উৎপাদন তারিখ বা ম্যানুফ্যাকচারিং ডেট দেখে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
দোকানে অনেক দিন অলস পড়ে থাকা ব্যাটারির চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা অনেকটাই কমে যায়।
সর্বদা চেষ্টা করবেন আসল ওয়ারেন্টি কার্ড সহ একটি নতুন এবং অথেনটিক ব্র্যান্ডের ব্যাটারি সংগ্রহ করতে।
আপনার ব্যবহারের ক্ষেত্র অনুযায়ী 12 ভোল্ট ব্যাটারি দাম কত পড়বে তা আগে থেকে জেনে নিলে ঠকার সম্ভাবনা থাকে না।
সঠিক অ্যাম্পিয়ার নির্বাচন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভুল অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি আপনার আইপিএস বা ইউপিএস এর ক্ষতি করতে পারে।
FAQ
প্রশ্ন ১: রাউটারের ব্যাকআপের জন্য কত অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি ভালো?
ওয়াইফাই রাউটার এবং অনু চালানোর জন্য ৭.৫ অ্যাম্পিয়ার বা ৯ অ্যাম্পিয়ারের ১২ ভোল্ট ব্যাটারি সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
প্রশ্ন ২: পুরাতন ব্যাটারি জমা দিলে কি নতুন ব্যাটারিতে ছাড় পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, বাংলাদেশে প্রায় সব দোকানেই পুরাতন ব্যাটারি জমা দিয়ে নতুন ব্যাটারি কেনার সময় ভালো পরিমাণের টাকা ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ৩: ব্যাটারির টার্মিনালে কার্বন জমলে কী করা উচিত?
টার্মিনালে কার্বন জমলে কুসুম গরম পানি দিয়ে তা পরিষ্কার করে সামান্য পেট্রোলিয়াম জেলি বা গ্রিজ মাখিয়ে রাখা উচিত।
প্রশ্ন ৪: লিথিয়াম ব্যাটারি কি লিড-অ্যাসিড ব্যাটারির চেয়ে ভালো?
লিথিয়াম ব্যাটারি দ্রুত চার্জ হয়, ওজনে হালকা এবং প্রায় ১০ বছর স্থায়ী হয়, তাই এটি লিড-অ্যাসিডের চেয়ে অনেক উন্নত।
প্রশ্ন ৫: ইউপিএস ব্যাটারি কত দিন পর পর পরিবর্তন করতে হয়?
সাধারণত সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে একটি ভালো মানের ইউপিএস ব্যাটারি ২ থেকে ৩ বছর ব্যাকআপ দিতে পারে।
উপসংহার
১২ ভোল্ট ব্যাটারি আমাদের দৈনন্দিন প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে অনেক বেশি মসৃণ ও নিরবচ্ছিন্ন করে তোলে। আপনার বাজেট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ব্র্যান্ডের সঠিক অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারিটি বেছে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
আশা করি এই গাইডটি আপনাকে আপনার কাঙ্ক্ষিত ১২ ভোল্ট ব্যাটারিটি সঠিক দামে খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।

আমি Md. Thouhidul Islam একজন ডেডিকেটেড কন্টেন্ট রাইটার ও প্রযুক্তিপ্রেমী। আপনারা হয়তো আমাকে ইতিমধ্যে অনেকেই চিনেন। আমি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ‘প্রযুক্তি ও কৌশল‘ এবং ‘শিক্ষা ও জীবন‘ বিষয়ে নিখুঁত ও তথ্যবহুল কনটেন্ট তৈরি করছি।
জটিল পড়াশোনা, টেকনিক্যাল বিষয় ও ডিজিটাল ট্রিকসগুলোকে সহজ এবং সাবলীল বাংলায় পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করাই আমার একমাত্র মূল বৈশিষ্ট্য। প্রিয় পাঠক, আমি সবসময় কোনো প্রকার কপি-পেস্ট ছাড়া গভীর গবেষণার মাধ্যমে পাঠকদের কাছে শতভাগ খাঁটি ও কার্যকরী তথ্য পৌঁছে দিতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আপনারা আমার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ!





