১.৫ টন এসির বিদ্যুৎ খরচ কত

১.৫ টন এসির বিদ্যুৎ খরচ কত? জেনে নিন ২০২৬ সালের নতুন রেট অনুযায়ী সঠিক হিসাব ও বিল কমানোর উপায়

গরমের তীব্রতায় ঘরে শান্তিতে থাকা এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় একটু আরামের জন্য অনেকেই ঘরে এসি লাগানোর কথা ভাবছেন। কিন্তু আমাদের মনে সবসময় একটি সাধারণ ভয় কাজ করে। মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল কত আসবে তা নিয়ে আমরা চিন্তায় পড়ে যাই।

আমাদের মধ্যে অনেকেই জানতে চান আসলে ১.৫ টন এসির বিদ্যুৎ খরচ কত হয়ে থাকে।

আজকের এই লেখায় আমরা এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। আমরা একদম সহজ ভাষায় ইনভার্টার ও নন-ইনভার্টার এসির খরচের পার্থক্য বুঝিয়ে দেব।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা BERC-এর নতুন নিয়ম অনুযায়ী এই হিসাব করা হয়েছে।

১.৫ টন এসির বিদ্যুৎ খরচ কত

এসির বিদ্যুৎ খরচ মূলত নির্ভর করে আপনার ব্যবহারের ধরণের ওপর। আপনার এসি কি ইনভার্টার নাকি নন-ইনভার্টার তা জানা প্রথমে জরুরি। নন-ইনভার্টার এসি ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে বারবার বন্ধ এবং চালু হয়।

প্রতিবার চালু হওয়ার সময় এটি অনেক বেশি বিদ্যুৎ টানে। অন্যদিকে ইনভার্টার এসি ঘরের তাপমাত্রা ঠিক রেখে কম গতিতে চলতে থাকে। তাই ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি অনেক বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে।

১.৫ টন এসির বিদ্যুৎ খরচ কত তা বুঝতে হলে আমাদের এর ওয়াট জানতে হবে।

১.৫ টন এসি কত ওয়াট খায় এবং এর হিসাব

সাধারণত একটি ১.৫ টন নন-ইনভার্টার এসি ১৫০০ থেকে ১৮০০ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। তার মানে এটি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১.৫ থেকে ১.৮ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে। পক্ষান্তরে একটি ১.৫ টন ইনভার্টার এসি শুরুতে ১৫০০ ওয়াট নিলেও পরে তা কমে যায়।

রুম ঠান্ডা হয়ে গেলে এটি মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ ওয়াটে নেমে আসে।

ফলে ইনভার্টার এসি প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ০.৭ থেকে ১.২ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে। সহজ একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝা যাক। আপনার এসি যদি ১০০০ ওয়াট বিদ্যুৎ টানে এবং তা ১ ঘণ্টা চলে, তবে ১ ইউনিট খরচ হবে।

এই সহজ নিয়ম জানলে আপনি নিজেই আপনার এসির হিসাব বের করতে পারবেন।

দিনে ৮ ঘণ্টা এসি চালালে বিল কত আসতে পারে?

বেশিরভাগ মানুষ রাতে ঘুমানোর সময় এসি ব্যবহার করেন। ধরে নেওয়া যাক আপনি প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে এসি চালান। যদি আপনার এসি ইনভার্টার হয়, তবে দিনে প্রায় ৬ থেকে ৮ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হবে

মাসে এই খরচ দাঁড়াবে ১৮০ থেকে ২৪০ ইউনিটের মতো।

নন-ইনভার্টার এসির ক্ষেত্রে এই খরচ দিনে ১২ থেকে ১৪ ইউনিট হতে পারে। তার মানে মাসে প্রায় ৩৬০ থেকে ৪২০ ইউনিট বিদ্যুৎ বিল আসতে পারে।

এখন এই ইউনিটের সাথে BERC বিদ্যুৎ ইউনিট রেট ২০২৬ হিসাব করতে হবে।

BERC বিদ্যুৎ ইউনিট রেট ২০২৬ এবং বিদ্যুৎ বিলের স্ল্যাব

বাংলাদেশে বিদ্যুতের বিল সবার জন্য এক রকম হয় না। আপনি যত বেশি ইউনিট ব্যবহার করবেন, প্রতি ইউনিটের দাম তত বাড়বে। ২০২৬ সালের নতুন সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আবাসিক গ্রাহকদের জন্য কয়েকটি ধাপ রয়েছে।

যেমন ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহার করলে প্রতি ইউনিটের দাম কম থাকে। কিন্তু ৩০০ বা ৪০০ ইউনিট পার হয়ে গেলে প্রতি ইউনিটের দাম অনেক বেড়ে যায়। এর সাথে প্রতি মাসে ডিমান্ড চার্জ এবং ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়।

তাই বেশি ইউনিট ব্যবহার করলে বিলের পরিমাণ অনেক গুণ বেড়ে যেতে পারে।

এসি ব্যবহার করার সময় এই স্ল্যাবের কথা মাথায় রাখা উচিত।

এসি বিদ্যুৎ বিল ক্যালকুলেশন বাংলাদেশ

চলুন আমরা সরাসরি একটি মাসিক বিলের হিসাব দেখে নিই। ধরে নিই আপনার বাসায় অন্যান্য গ্যাজেট মিলিয়ে আগে থেকেই ২০০ ইউনিট খরচ হয়। hisob অনুযায়ী নতুন এসি যোগ করার পর আপনার মোট ইউনিট ৪০০ পার হয়ে গেল।

যদি আপনি ইনভার্টার এসি দিনে ৮ ঘণ্টা চালান, তবে মাসে অতিরিক্ত বিল আসতে পারে ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা। আর যদি নন-ইনভার্টার এসি হয়, তবে এই বিল ৪০০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

এই হিসাবটি সাধারণ বাসাবাড়ির স্বাভাবিক ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।

ঘরের আকার বড় হলে বা লোকসংখ্যা বেশি হলে বিল কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

কার্যকারী এসি বিল কমানোর টেকনিক

কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে এসি চালিয়েও বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এসির তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা। অনেকে ঘর দ্রুত ঠান্ডা করার জন্য ১৬ ডিগ্রিতে এসি চালিয়ে রাখেন।

এটি একটি ভুল ধারণা এবং এর ফলে কম্প্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

প্রতি এক ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়ানোর জন্য প্রায় ৬ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। এসি চালানোর সময় ঘরের দরজা ও জানালা ভালোমতো বন্ধ রাখতে হবে। রুমে যেন সরাসরি বাইরের রোদ না আসে সে জন্য ভারী পর্দা ব্যবহার করা ভালো।

এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার করলে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে। কমপক্ষে ১৫ দিন পর পর এসির নেট বা ফিল্টার ধুয়ে নেওয়া উচিত।

এছাড়া এসি চালু করার সময় কম স্পিডে সিলিং ফ্যান চালানো যেতে পারে।

ফ্যান চালালে ঠান্ডা বাতাস পুরো ঘরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এসি দ্রুত লোড কমিয়ে দেয়।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

১.৫ টন ইনভার্টার এসির বিদ্যুৎ বিল ২০২৬ সালে কত হতে পারে?

প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা ব্যবহারে ইনভার্টার এসির মাসিক বিল আনুমানিক ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা হতে পারে।

নন-ইনভার্টার এসি বিদ্যুৎ খরচ কেন বেশি হয়?

নন-ইনভার্টার এসির কম্প্রেসর বারবার পুরো শক্তিতে চালু ও বন্ধ হয় বলে বিদ্যুৎ বেশি খরচ হয়।

এসি কত ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে তা কীভাবে জানব?

এসির পাশে বা ইনডোর ইউনিটের গায়ে লাগানো স্টিকারে ওয়াটেজের পরিমাণ লেখা থাকে।

এসি স্লিপ মোডে রাখলে কি বিল কমে?

হ্যাঁ, স্লিপ মোড অন থাকলে রাতে প্রতি ঘণ্টায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১ ডিগ্রি করে তাপমাত্রা বাড়ে যা বিল কমায়।

নতুন এসি কেনার সময় কোন বিষয় দেখা উচিত?

সবসময় বেশি স্টার রেটিং যুক্ত ইনভার্টার এসি কেনা উচিত কারণ এটি দীর্ঘমেয়াদে টাকা বাঁচায়।

শেষ কথা

তীব্র গরমে সুস্থ ও শান্তিতে থাকতে এসির বিকল্প নেই। সরকানি নিয়ম ও সঠিক উপায়ে ব্যবহার করলে এসি কোনো ভয়ের কারণ নয়। আশা করি এই লেখার মাধ্যমে ১.৫ টন এসির বিদ্যুৎ খরচ কত সে বিষয়ে একটি পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন।

সচেতনভাবে এসি ব্যবহার করুন, এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের চিন্তা থেকে মুক্ত থাকুন।

Authority Sources:

  • বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC) অফিসিয়াল ওয়েবসাইট

  • ডিপিডিসি বা ডেসকো বিদ্যুৎ বিল ক্যালকুলেটর পোর্টাল

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top