আসসালামু আলাইকুম, আমাদের দেখতে কেন বাবা বা মায়ের মতো হয়? কেন ভাই বোনের মধ্যে চেহারার মিল থাকে? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে বিজ্ঞানের একটি চমৎকার বিষয়ে, যাকে আমরা বলি ‘বংশগতি’। কিন্তু জীবদেহে বংশগতির ধারক ও বাহক কোনটি?
এককথায় উত্তর দিলে, বংশগতির প্রধান বস্তু হলো ক্রোমোজোম এবং এর ভেতরে থাকা ডিএনএ (DNA) ও জিন (Gene)।
আমি স্যার নোমান সৈয়দ শামসুল। দীর্ঘদিন ধরে জীববিজ্ঞান ও বংশগতিবিদ্যা (Genetics) নিয়ে পড়াশোনা এবং গবেষণার সুবাদে এই জটিল বিষয়টিকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। আমার এই অভিজ্ঞতার আলোকেই আজ খুব সহজ ভাষায় আপনাদের এই রহস্যটি বুঝিয়ে বলব। সাধারণত আমাদের এই ব্লগ ওয়েবসাইটটি এমনভাবে সাজিয়েছি, যেন আমাদের পাঠকরা ছোট ছোট যে কোন বিষয়ে শিখতে পারে। আপনি যদি ভিন্ন কিছু নতুন কিছু শিখতে চান, তাহলে এই ব্লক ওয়েবসাইটটি আপনার জন্য যথেষ্ট একটি শিক্ষা নিয়ে প্ল্যাটফর্ম।

বংশগতি কী এবং এর বাহক আসলে কে?
পিতা সমাতার বৈশিষ্ট্য যে প্রক্রিয়ায় সন্তান সন্ততির মধ্যে স্থানান্তরিত হয়, তাকে বংশগতি বলে। আর এই বৈশিষ্ট্যগুলো যে উপাদানগুলো বহন করে, তারাই হলো বংশগতির বাহক। আমি চেয়েছি একদম সহজেই আপনাদের জন্য উত্তর এখানে দেওয়ার জন্য আশা করতেছি। আমি এখানে একদম সহজ উত্তরটি দিয়েছি তা আপনি বুঝতে পেরেছেন। আমাদের এখানে যে সকল শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছে বা বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে , যদি কোন কিছু না বুঝে থাকেন, তাহলে নিচে কমেন্ট বক্সে আমাদেরকে কমেন্ট করুন।
কোষের নিউক্লিয়াসের ভেতরে সুতার মতো কিছু অংশ থাকে। এদের ক্রোমোজোম বলা হয়। ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয়। কারণ এটি সরাসরি এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়।
আমার শিক্ষকতা ও গবেষণার জীবনে আমি দেখেছি, শিক্ষার্থীরা প্রায়ই ক্রোমোজোম, ডিএনএ এবং জিনের মধ্যে গুলিয়ে ফেলে। চলুন একটি সহজ টেবিল থেকে এদের কাজ বুঝে নেওয়া যাক।
বংশগতির প্রধান উপাদান ও তাদের কাজ
| উপাদান | মূল ভূমিকা | সহজ উদাহরণ |
| ক্রোমোজোম | বংশগতির মূল গাড়ি বা ভৌত ভিত্তি | একটি আস্ত বই |
| ডিএনএ (DNA) | রাসায়নিক গঠন এবং তথ্যের ভাণ্ডার | বইয়ের ভেতরের পাতাগুলো |
| জিন (Gene) | নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য প্রকাশের একক | পাতার ভেতরের একেকটি বাক্য |
ডিএনএ (DNA): বংশগতির রাসায়নিক ভিত্তি
ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান হলো ডিএনএ। এর পূর্ণ রূপ হলো ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (Deoxyribonucleic Acid)।
আমি যখন ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ-এর গঠন নিয়ে কাজ করতাম, তখন এর কার্যক্ষমতা দেখে সত্যি অবাক হতাম। ডিএনএ দেখতে একটি দোতলার পেঁচানো সিঁড়ির মতো। একে ‘ডাবল হেলিক্স’ বলা হয়।
বিজ্ঞানী ওয়াটসন এবং ক্রিক ১৯৫৩ সালে ডিএনএ-এর এই মডেল আবিষ্কার করেন, যা জীববিজ্ঞানের ইতিহাস বদলে দিয়েছিল। আপনার চোখের রঙ কেমন হবে, বা আপনার চুল কোঁকড়ানো হবে কি না, তার সব তথ্য এই ডিএনএ-এর ভেতরে সংকেত হিসেবে জমা থাকে।
জিন (Gene): বৈশিষ্ট্যের আসল কারিগর
ডিএনএ-এর যে নির্দিষ্ট অংশ কোনো একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে, তাকে জিন বলে। অর্থাৎ, জিন হলো বংশগতির কার্যকরী একক।
একটি ক্রোমোজোমে হাজার হাজার জিন থাকতে পারে। মানবদেহে প্রায় ২০,০০০ থেকে ২৫,০০০ জিন রয়েছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: বাবা এবং মায়ের থেকে সন্তান সমান সংখ্যক ক্রোমোজোম পায়। এই ক্রোমোজোমে থাকা জিনগুলোই ঠিক করে সন্তান কার মতো দেখতে হবে। যদি বাবার চোখের রঙের জিনটি বেশি শক্তিশালী (Dominant) হয়, তবে সন্তানের চোখ বাবার মতো হয়।
আরএনএ (RNA) এর ভূমিকা কী?
বংশগতির কথা বললে আরএনএ (Ribonucleic Acid) এর নামও চলে আসে। বেশিরভাগ জীবদেহে ডিএনএ মূল ভূমিকা পালন করলেও, কিছু ভাইরাসের (যেমন- তামাকের মোজাইক ভাইরাস বা টিএমভি) বংশগতির বাহক হিসেবে আরএনএ কাজ করে। সাধারণ জীবদেহে আরএনএ মূলত প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে।
শেষ কথা
তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম যে, বংশগতির ধারক ও বাহক হিসেবে ক্রোমোজোম, ডিএনএ এবং জিন সম্মিলিতভাবে কাজ করে। ক্রোমোজোম যদি হয় গাড়ি, তবে ডিএনএ হলো তার ইঞ্জিন, আর জিন হলো চালক। আরো কেমন করে বললে আপনারা খুব সহজেই বুঝতে পারবেন? আমরা সব সময় একদম সহজেই কিভাবে বুঝানো যায়, সেই পন্তা অবলম্বন করে আপনাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করি।
আশা করি, আজকের আলোচনার পর বংশগতির এই মূল রহস্যটি আপনাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। বিজ্ঞান সংক্রান্ত এমন আরও জটিল বিষয় সহজ ভাষায় জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।
সন্তানের প্রতি পিতা মাতার হক সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য এখানে প্রবেশ করুন।





