আমরা যখন অসুস্থ হয়ে কোনো ডাক্তারের চেম্বারে যাই, তখন ডাক্তারের নেমপ্লেট বা প্রেসক্রিপশনের প্যাডে নামের পাশে অনেকগুলো ইংরেজি ডিগ্রী দেখতে পাই। এমবিবিএস (MBBS) তো প্রায় সবারই চেনা, কিন্তু এর বাইরেও এফসিপিএস (FCPS), এমডি (MD), এমএস (MS) কিংবা এফআরসিএস (FRCS)-এর মতো ডিগ্রীগুলো দেখে সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে। আসলে ডাক্তারের সর্বোচ্চ ডিগ্রী কি? কোন ডিগ্রীটি থাকলে একজন ডাক্তারকে সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ বা বিশেষজ্ঞ বলা যাবে?
একজন সাধারণ রোগী হিসেবে এই বিষয়গুলো জানা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। কারণ, সঠিক চিকিৎসার জন্য সঠিক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার খুঁজে পাওয়াটা সুস্থতার প্রথম ধাপ। অনেক সময় আমরা না বুঝেই এমন ডাক্তারের কাছে যাই যিনি হয়তো ওই নির্দিষ্ট রোগের বিশেষজ্ঞ নন। আজকের এই লেখায় আমি খুব সহজ ভাষায় চিকিৎসকদের বিভিন্ন ডিগ্রী, সেগুলোর পূর্ণরূপ এবং গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এই লেখাটি পড়ার পর ডাক্তারের সাইনবোর্ড দেখে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন কার যোগ্যতা কতটুকু।

চিকিৎসাবিদ্যার হাতেখড়ি: গ্রাজুয়েশন বা এমবিবিএস
ডাক্তারি পেশার শুরুটা হয় একটি বুনিয়াদি ডিগ্রীর মাধ্যমে। এটি ছাড়া কেউ নিজেকে ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিতে পারেন না এবং রোগী দেখার আইনগত অধিকার রাখেন না।
এমবিবিএস (MBBS)
এর পূর্ণরূপ হলো ‘Bachelor of Medicine and Bachelor of Surgery’। এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের স্নাতক বা গ্রাজুয়েশন ডিগ্রী। একজন শিক্ষার্থীকে মেডিকেল কলেজে দীর্ঘ ৫ বছর পড়াশোনা করতে হয় এবং এরপর ১ বছর বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হয়। এই ৬ বছরের কঠোর পরিশ্রম শেষে তিনি বিএমডিসি (BMDC) থেকে রেজিস্ট্রেশন নম্বর পান এবং প্র্যাকটিস করার অনুমতি লাভ করেন।
অনেকে মনে করেন এমবিবিএস পাস করলেই বুঝি পড়াশোনা শেষ। আসলে তা নয়, এটি হলো সাগরের তীরে পা রাখার মতো। একজন এমবিবিএস ডাক্তার সাধারণ সব রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারেন। কিন্তু জটিল কোনো রোগের জন্য বা অপারেশনের জন্য প্রয়োজন হয় বিশেষায়িত জ্ঞান বা স্পেশালাইজেশন, যা পরবর্তী উচ্চতর ডিগ্রীর মাধ্যমে অর্জন করতে হয়।
বিডিএস (BDS)
দাঁতের চিকিৎসকদের জন্য প্রাথমিক ডিগ্রী হলো বিডিএস বা ‘Bachelor of Dental Surgery’। দাঁত ও মুখের যাবতীয় চিকিৎসার জন্য এই ডিগ্রীটি এমবিবিএস-এর সমমানের ডেন্টাল ডিগ্রী।
পোস্ট গ্রাজুয়েশন: বিশেষজ্ঞ হওয়ার লড়াই
এমবিবিএস পাস করার পর একজন ডাক্তার যখন কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে (যেমন: হার্ট, কিডনি, নিউরো বা শিশু রোগ) বিশেষজ্ঞ হতে চান, তখন তাকে পোস্ট গ্রাজুয়েশন বা উচ্চতর ডিগ্রী নিতে হয়। সাধারণ মানুষের মনে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খায় ডাক্তারের সর্বোচ্চ ডিগ্রী কি তার উত্তর মূলত এই ধাপেই নিহিত রয়েছে। বাংলাদেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত প্রধান কিছু উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে নিচে আলোচনা করছি।
এফসিপিএস (FCPS): ক্লিনিক্যাল দক্ষতার মাপকাঠি
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এফসিপিএস-কে অত্যন্ত সম্মানজনক এবং কঠিন একটি ডিগ্রী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর পূর্ণরূপ হলো ‘Fellow of College of Physicians and Surgeons’। এই ডিগ্রীটি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় দেয় না, এটি প্রদান করে ‘বাংলাদেশ কলেজ অফ ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জনস’ (BCPS)।
এফসিপিএস ডিগ্রী অর্জন করা বেশ সময়সাপেক্ষ এবং ধৈর্যের পরীক্ষা। একে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়: পার্ট-১ এবং পার্ট-২। এমবিবিএস পাসের পর একজন ডাক্তারকে প্রথমে কঠিন একটি পরীক্ষার মাধ্যমে পার্ট-১ পাস করতে হয়। এরপর তাকে দীর্ঘ ৪ থেকে ৫ বছর নির্দিষ্ট কোনো মেডিকেল কলেজ বা হাসপাতালে প্রশিক্ষণ নিতে হয়। এই প্রশিক্ষণ চলাকালীন তাকে হাতে-কলমে রোগী দেখা এবং চিকিৎসার খুঁটিনাটি শিখতে হয়। প্রশিক্ষণ শেষে চূড়ান্ত পরীক্ষা বা পার্ট-২ পাস করলে তাকে এফসিপিএস ডিগ্রী প্রদান করা হয়।
কেন একে সর্বোচ্চ ক্লিনিক্যাল ডিগ্রী বলা হয়? কারণ, এই ডিগ্রীধারীদের ব্যবহারিক জ্ঞান বা ক্লিনিক্যাল নলেজ খুব গভীর হয়। রোগীদের সরাসরি চিকিৎসা দেওয়ায় এরা অত্যন্ত দক্ষ হন। তাই আপনি যদি কোনো ডাক্তারের নামের পাশে এফসিপিএস দেখেন, তবে নিশ্চিন্তে আস্থা রাখতে পারেন যে তিনি তার বিষয়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞ।

এমডি (MD) এবং এমএস (MS): একাডেমিক ও ক্লিনিক্যাল শ্রেষ্ঠত্ব
এফসিপিএস-এর পাশাপাশি আরও দুটি ডিগ্রী আছে যা চিকিৎসা জগতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ডিগ্রী হিসেবে স্বীকৃত। এগুলো হলো এমডি এবং এমএস। এই ডিগ্রীগুলো সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় (যেমন: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় – BSMMU) থেকে প্রদান করা হয়।
এমডি (Doctor of Medicine):
মেডিসিন এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর (যেমন: কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি, গ্যাস্ট্রোলজি, পেডিয়াট্রিক্স) সর্বোচ্চ ডিগ্রী হলো এমডি। এটি একটি রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম। অর্থাৎ, একজন ডাক্তারকে নির্দিষ্ট হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা অবস্থান করে পড়াশোনা এবং রোগী সেবা দিতে হয়। এটি ৫ বছরের একটি কোর্স। এখানে গবেষণার ওপরও বেশ জোর দেওয়া হয়।
এমএস (Master of Surgery):
শল্যচিকিৎসা বা সার্জারি বিষয়ক সর্বোচ্চ ডিগ্রী হলো এমএস। যারা সার্জন হতে চান বা অপারেশন করেন, তাদের জন্য এটি সর্বোচ্চ ডিগ্রী। জেনারেল সার্জারি, নিউরো সার্জারি, অর্থোপেডিক্স, ইউরোলজি ইত্যাদি বিষয়ে এমএস ডিগ্রী দেওয়া হয়।
এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, এফসিপিএস এবং এমডি/এমএস-এর মধ্যে পার্থক্য কী? সহজ কথায়, দুটির মান প্রায় সমান। এফসিপিএস-এ ক্লিনিক্যাল বা রোগী দেখার দক্ষতার ওপর একটু বেশি জোর দেওয়া হয়, আর এমডি/এমএস-এ ক্লিনিক্যাল দক্ষতার পাশাপাশি একাডেমিক পড়াশোনা ও গবেষণার সংমিশ্রণ থাকে। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে পদোন্নতি বা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক হওয়ার জন্য এই ডিগ্রীগুলো অপরিহার্য।
ডিপ্লোমা ডিগ্রী: স্বল্পমেয়াদী বিশেষায়ন
সব উচ্চতর ডিগ্রীই কিন্তু সর্বোচ্চ বা টার্মিনাল ডিগ্রী নয়। কিছু ডিগ্রী আছে যা স্বল্পমেয়াদী, এগুলোকে ডিপ্লোমা বলা হয়। যেমন:
-
DGO: গাইনি ও অবস্ বিষয়ক ডিপ্লোমা।
-
DCH: শিশু রোগ বিষয়ক ডিপ্লোমা।
-
DO: চক্ষু বিষয়ক ডিপ্লোমা।
এই কোর্সগুলো সাধারণত ১ থেকে ২ বছরের হয়। যদিও এগুলো এফসিপিএস বা এমডি-এর মতো সর্বোচ্চ ডিগ্রী নয়, তবুও একজন এমবিবিএস ডাক্তারের চেয়ে একজন ডিপ্লোমাধারী ডাক্তারের নির্দিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান অনেক বেশি থাকে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বা জেলা শহরগুলোতে এই ডিপ্লোমাধারী ডাক্তাররা সাধারণ মানুষের চিকিৎসায় বিশাল ভূমিকা রাখছেন।
আন্তর্জাতিক বা বিদেশি ডিগ্রী: এফআরসিএস ও এমআরসিপি
অনেক সময় আমরা বাঘা বাঘা প্রফেসরদের নামের পাশে বিলেতি ডিগ্রী দেখি। এগুলো আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি।
এফআরসিএস (FRCS):
এর পূর্ণরূপ ‘Fellow of the Royal College of Surgeons’। এটি যুক্তরাজ্য বা ইউকে থেকে দেওয়া সার্জারি বিষয়ক অত্যন্ত প্রেস্টিজিয়াস একটি ফেলোশিপ। একসময় বাংলাদেশ থেকে সরাসরি এই পরীক্ষা দেওয়া যেত না, এখন কিছু অংশ দেশ থেকেও দেওয়া যায়। আন্তর্জাতিক বিশ্বে একজন সার্জনের দক্ষতার প্রমাণ হলো এই ডিগ্রী।
এমআরসিপি (MRCP):
‘Member of the Royal College of Physicians’। এটিও যুক্তরাজ্যের একটি ডিগ্রী যা মেডিসিন বিভাগের ডাক্তারদের দেওয়া হয়।
এই ডিগ্রীগুলো থাকলে বোঝা যায় যে ওই ডাক্তার আন্তর্জাতিক কারিকুলাম ও স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। তবে মনে রাখবেন, আমাদের দেশের এফসিপিএস বা এমডি ডিগ্রীও এখন আন্তর্জাতিক মানের কাছাকাছি এবং অনেক ক্ষেত্রে সমতুল্য হিসেবে গণ্য হয়।
পিএইচডি (PhD): নামের ভার নাকি চিকিৎসার ধার?
অনেক সময় আমরা ভাবি পিএইচডি করলেই বুঝি তিনি সবচেয়ে বড় ডাক্তার। বিষয়টি একটু পরিষ্কার করা দরকার। PhD (Doctor of Philosophy) হলো একটি গবেষণাধর্মী ডিগ্রী।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে যারা নতুন নতুন আবিষ্কার, রোগের কারণ নির্ণয় বা ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা করতে চান, তারা পিএইচডি করেন। একজন পিএইচডি ধারী ডাক্তার একাডেমিক দিক থেকে অনেক জ্ঞানী, তিনি হয়তো মেডিকেল কলেজের খুব ভালো শিক্ষক হতে পারেন। কিন্তু ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস বা সরাসরি রোগী দেখার ক্ষেত্রে একজন এফসিপিএস বা এমডি/এমএস ডিগ্রীধারী ডাক্তার অনেক ক্ষেত্রে বেশি দক্ষ হতে পারেন। কারণ পিএইচডি-তে হাতে-কলমে রোগী দেখার চেয়ে ল্যাবরেটরি বা থিওরিটিক্যাল গবেষণার গুরুত্ব বেশি থাকে।
ডিগ্রীর তুলনা ও গুরুত্ব: এক নজরে
আপনার বোঝার সুবিধার্থে আমি নিচে একটি টেবিল তৈরি করে দিচ্ছি, যা দেখে আপনি সহজেই ডিগ্রীর গুরুত্ব বুঝতে পারবেন।
| ডিগ্রীর নাম | পূর্ণরূপ | ধরন | গুরুত্ব ও অবস্থান |
| MBBS | Bachelor of Medicine & Bachelor of Surgery | স্নাতক (প্রাথমিক) | রোগী দেখার লাইসেন্স বা ভিত্তি। |
| FCPS | Fellow of College of Physicians and Surgeons | ফেলোশিপ | বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ ক্লিনিক্যাল ডিগ্রী। |
| MD | Doctor of Medicine | মাস্টার্স/ডক্টরেট (ক্লিনিক্যাল) | মেডিসিন বিভাগের সর্বোচ্চ একাডেমিক ও ক্লিনিক্যাল ডিগ্রী। |
| MS | Master of Surgery | মাস্টার্স (সার্জারি) | সার্জারি বিভাগের সর্বোচ্চ ডিগ্রী। |
| Diploma | DGO, DCH, DO etc. | ডিপ্লোমা | বিশেষায়িত কিন্তু সর্বোচ্চ ডিগ্রী নয় (মধ্যম সারি)। |
| PhD | Doctor of Philosophy | ডক্টরেট (রিসার্চ) | মূলত গবেষণা ও শিক্ষকতার জন্য সর্বোচ্চ ডিগ্রী। |
অধ্যাপক বা প্রফেসর: এটি কি কোনো ডিগ্রী?
রোগীদের মধ্যে একটি খুব সাধারণ ভুল ধারণা আছে। অনেকেই মনে করেন “প্রফেসর” বা “অধ্যাপক” হয়তো ডাক্তারি পড়ার সবচেয়ে বড় ডিগ্রী। আসলে প্রফেসর কোনো ডিগ্রী নয়, এটি একটি চাকুরির পদবী (Designation)।
একজন ডাক্তার যখন এফসিপিএস, এমডি বা এমএস-এর মতো সর্বোচ্চ ডিগ্রীগুলো অর্জন করেন এবং এরপর দীর্ঘদিন মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতা ও রোগী দেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, তখন তিনি পদোন্নতি পেয়ে সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং অবশেষে অধ্যাপক হন। অর্থাৎ, সব প্রফেসরই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, কিন্তু সব বিশেষজ্ঞ ডাক্তারই প্রফেসর নন। প্রফেসরেরা সাধারণত তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে জটিল রোগ নির্ণয়ে বেশি পারদর্শী হয়ে থাকেন।
সঠিক ডাক্তার চিনবেন কীভাবে?
ইদানীং ভুয়া ডাক্তারের দৌরাত্ম্য অনেক বেড়েছে। নামের পাশে অখ্যাত সব ডিগ্রীর নাম লিখে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়। যেমন: PGT (পোস্ট গ্রাজুয়েশন ট্রেনিং), RMP (রুরাল মেডিকেল প্র্যাকটিশনার) ইত্যাদি। মনে রাখবেন, এগুলো কোনো স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ ডিগ্রী নয়।
আপনি যখন ডাক্তারের কাছে যাবেন, তখন খেয়াল করবেন তার নামের পাশে বিএমডিসি (BMDC) রেজিস্ট্রেশন নম্বর আছে কি না। এবং বিশেষজ্ঞ হিসেবে দাবি করলে উপরে উল্লেখিত এফসিপিএস, এমডি, এমএস বা নিদেনপক্ষে কোনো ডিপ্লোমা ডিগ্রী আছে কি না তা যাচাই করুন। গুগল বা বিএমডিসি-এর ওয়েবসাইটে গিয়েও আপনি ডাক্তারের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে সত্যতা যাচাই করতে পারেন। এটি YMYL (Your Money Your Life) পলিসির অধীনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, কারণ ভুল চিকিৎসায় জীবনহানি পর্যন্ত হতে পারে।
আমার শেষ কথা
পরিশেষে বলা যায়, ডাক্তারের সর্বোচ্চ ডিগ্রী কি এই প্রশ্নের উত্তর এক কথায় দেওয়া কঠিন। তবে ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস বা রোগী দেখার জন্য এফসিপিএস (FCPS), এমডি (MD) এবং এমএস (MS)-কে বর্তমানে সর্বোচ্চ বা টার্মিনাল ডিগ্রী হিসেবে ধরা হয়। আর গবেষণার জন্য পিএইচডি সর্বোচ্চ।
তবে ডিগ্রীর বাইরেও একজন ডাক্তারের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো তার মানবিকতা এবং রোগীর প্রতি তার আচরণ। অনেক বড় ডিগ্রীধারী ডাক্তারের চেয়ে একজন অভিজ্ঞ ও আন্তরিক এমবিবিএস ডাক্তারও অনেক সময় রোগীর জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসেন। তাই কেবল ডিগ্রী বা বড় সাইনবোর্ড না দেখে, ডাক্তারের অভিজ্ঞতা এবং রোগীদের প্রতি তার আন্তরিকতা যাচাই করাও সমান জরুরি।
আশা করি, আজকের এই আলোচনার পর ডাক্তারের ডিগ্রী নিয়ে আপনার মনের সব ধোঁয়াশা কেটে গেছে। এখন থেকে ডাক্তারের নেমপ্লেট দেখলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন তিনি কোন মানের চিকিৎসক।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার কি বিস্তারিত জানার জন্য এখানে প্রবেশ করুন।





