আসসালামু আলাইকুম সম্মানিত পাঠক। রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ অনেক সময় ধীরে ধীরে দেখা দেয়। আবার কখনও কোনো লক্ষণই স্পষ্ট থাকে না। এই কারণেই একে অনেকেই নীরব বি*পদ বলে। শুরুতে বুঝতে না পারলেও ভেতরে ভেতরে ধমনীগুলোতে চর্বি জমতে থাকে। আর সেই জমাট চর্বিই একদিন বড় ধরনের হৃদরোগের কারণ হতে পারে। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে জানার জন্য অর্ধেক পড়ে চলে গেলে হবে না। এখানে আমরা যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছি সবগুলো তথ্য পড়ে নেবেন। যেহেতু বিশেষ করে স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন, এই জন্য পরিপূর্ণ তথ্য জেনে নেওয়া ভালো।
আজ আমরা সহজ ভাষায় জানবো কীভাবে বুঝবেন কোলেস্টেরল বাড়ছে, কেন বাড়ে, আর কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন।
কোলেস্টেরল কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
কোলেস্টেরল এক ধরনের চর্বি জাতীয় উপাদান। আমাদের শরীর নিজেই কিছু কোলেস্টেরল তৈরি করে। এটি হরমোন তৈরি, কোষ গঠন এবং ভিটামিন ডি উৎপাদনে সাহায্য করে। সমস্যা তখনই হয় যখন খারাপ কোলেস্টেরল বা LDL মাত্রা বেড়ে যায়। আর ভালো কোলেস্টেরল বা HDL কমে যায়।
ধরুন একটি পাইপের ভেতরে ময়লা জমে যাচ্ছে। প্রথমে বোঝা যায় না। কিন্তু একসময় পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ধমনীর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে।
রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, অনেক সময় কোনো লক্ষণই থাকে না। তাই নিয়মিত লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করা জরুরি।
তবে কিছু ক্ষেত্রে নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে।
- বুকে চাপ বা ব্যথা অনুভব করা
- হাঁটলে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া
- শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
- ঘন ঘন মাথা ঘোরা
- হাত বা পায়ে অবশভাব
- চোখের পাতায় হলদেটে চর্বির দাগ জমা
অনেকেই ভাবেন এগুলো সাধারণ সমস্যা। কিন্তু এগুলো রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
বিশেষ করে যদি আপনার ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকে, তাহলে ঝুঁকি আরও বেশি।
উচ্চ কোলেস্টেরল এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি
উচ্চ কোলেস্টেরল ধমনীর ভেতরে প্লাক তৈরি করে। এই প্লাক রক্ত চলাচল কমিয়ে দেয়। কখনও হঠাৎ করে রক্ত জমাট বেঁধে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। অনেক মানুষ হার্ট অ্যাটাকের আগে কোনো সতর্ক সংকেত পান না। তাই এটিকে সাইলেন্ট কিলার বলা হয়।
উদাহরণ হিসেবে ধরুন, একজন ব্যক্তি বাইরে থেকে একদম সুস্থ। কিন্তু হঠাৎ বুকের তীব্র ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে যেতে হলো। পরে দেখা গেল দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরলই ছিল মূল কারণ।
খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) ও ভালো কোলেস্টেরল (HDL)
LDL কে বলা হয় খারাপ কোলেস্টেরল। এটি ধমনীর দেয়ালে জমে যায়।
HDL কে বলা হয় ভালো কোলেস্টেরল। এটি অতিরিক্ত চর্বি সরিয়ে নিতে সাহায্য করে।
যদি LDL বেশি হয় এবং HDL কম থাকে, তখন হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
ট্রাইগ্লিসারাইড ও রক্তে চর্বি জমা
ট্রাইগ্লিসারাইড হলো রক্তে থাকা আরেক ধরনের চর্বি। অতিরিক্ত মিষ্টি ও ফাস্টফুড খেলে এটি বেড়ে যায়। উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইডও স্ট্রোকের কারণ হতে পারে।
রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার কারণ
কিছু সাধারণ কারণ হলো:
- অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার
- ফাস্টফুড ও ভাজাপোড়া
- নিয়মিত ব্যায়ামের অভাব
- ধূমপান
- অতিরিক্ত ওজন
- বংশগত কারণ
অনেক সময় পরিবারে কারও হৃদরোগ থাকলে অন্য সদস্যদেরও ঝুঁকি থাকে।
লিপিড প্রোফাইল টেস্ট কেন জরুরি
রক্ত পরীক্ষা ছাড়া কোলেস্টেরল বোঝা যায় না। লিপিড প্রোফাইল টেস্টে মোট কোলেস্টেরল, LDL, HDL এবং ট্রাইগ্লিসারাইড পরিমাপ করা হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের বছরে অন্তত একবার পরীক্ষা করা ভালো। যদি ঝুঁকি বেশি থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করতে হবে।
কোলেস্টেরল কমানোর উপায়
ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
সচেতন হলেই অনেকটা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
- প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা
- শাকসবজি ও ফল বেশি খাওয়া
- লাল মাংস কম খাওয়া
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
- ধূমপান বন্ধ করা
ওটস, বাদাম, সামুদ্রিক মাছ ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে।
অনেকে জিজ্ঞেস করেন, শুধু ওষুধেই কি সমাধান? না, জীবনযাত্রার পরিবর্তনই আসল চাবিকাঠি।
ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরলের সম্পর্ক
ডায়াবেটিস থাকলে ধমনীর ক্ষতি দ্রুত হয়। তাই ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল একসাথে থাকলে ঝুঁকি দ্বিগুণ। এক্ষেত্রে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত পরীক্ষা খুব জরুরি।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
যদি বুকে ব্যথা, তীব্র শ্বাসকষ্ট বা হঠাৎ ঘাম হওয়া শুরু হয়, দেরি করবেন না। দ্রুত চিকিৎসা নিন।
মনে রাখবেন, রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ সব সময় স্পষ্ট নয়। তাই উপসর্গের অপেক্ষা না করে সচেতন থাকাই ভালো।
আমার শেষ কথা
কোলেস্ট্রল সম্পর্কে এখানে আমরা সঠিক তথ্য গুলো তকদের জন্য তুলে ধরেছি। শরীর আমাদের নিজের দায়িত্ব। আজ একটু যত্ন নিলে আগামীকাল বড় বিপদ এড়ানো যায়। রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ বুঝতে শিখুন। নিয়মিত পরীক্ষা করুন। স্বাস্থ্যকর খাবার খান। প্রতিদিন একটু হাঁটুন। ছোট ছোট পরিবর্তনই বড় সুস্থতার পথ খুলে দেয়।
কোলেস্ট্রল সম্পর্কে আমাদের এই ব্লগে আমরা যতটুকু তথ্য প্রয়োজন সবগুলোই তুলে ধরেছি।
চেহারা সুন্দর করার ইসলামিক উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য এখানে প্রবেশ করুন।





