২০২৬ এ চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনের টিকিটের মূল্য জেনে নিন

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনের টিকিটের মূল্য

আসসালামু আলাইকুম। সবাই কেমন ভ্রমণ করছেন? ভ্রমণ প্রেমিকদের জন্য চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনের টিকিটের মূল্য ২০২৬ (আপডেটেড তথ্য) দিচ্ছি। আপনিও যদি মাঝে মাঝে আমার মতো ভ্রমণ করে থাকেন, পাহাড় আর সমুদ্রের মিতালি দেখতে কার না ভালো লাগে। শহর জীবনের ব্যস্ততা কাটিয়ে নীল জলরাশির টানে আমরা অনেকেই ছুটে যাই কক্সবাজারে। আমি যখন প্রাথমিকভাবে ভ্রমণ শুরু করতেছিলাম, তখন কক্সবাজারে বাস বা বিমানে যাতায়াত করতে হতো। যদিও আগে শুধু বাস বা বিমানে যাওয়ার সুযোগ থাকতো। আর এখন ট্রেন ভ্রমণ যোগ করেছে এক নতুন মাত্রা। তাই যাত্রার আগে আমাদের সবারই জানা প্রয়োজন চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনের টিকিটের মূল্য কত। সঠিক তথ্য জানা থাকলে আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা অনেক বেশি সহজ ও আনন্দদায়ক হবে।

আগে বলুন এই ঈদে আপনি কক্সবাজার ট্রাভেল করেছেন কিনা? না করে থাকলে ভালো কিছু মিস করেছেন।

যা হোক, আজকের আর্টিকেলে আমি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেনের ভাড়া কত, এবং যাতায়াতের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আলোচনা করব।

চট্টগ্রাম টু কক্সবাজার ট্রেনের ভাড়া কত?

যারা ট্রেনে চলাচল করেননি তাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন ট্রেনের ভাড়া হয়তো অনেক বেশি, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার জন্য বিভিন্ন শ্রেণির সিট রয়েছে, যা আপনার বাজেটের মধ্যেই পড়বে। আপনি যদি নতুন ট্রেনে ভ্রমণ করার কথা চিন্তা ভাবনা করেন, আমার এই লেখা আপনার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাজেটের মধ্যে ভ্রমণ করার জন্য ভাড়া সম্পর্কে জানতে হবে। আপনি যদি খুব কম খরচে যেতে চান, তবে সাধারণ শোভন চেয়ার বেছে নিতে পারেন। আবার যদি একটু আয়েশ করে এসি সিটে যেতে চান, তবে সেই ব্যবস্থাও রয়েছে। এজন্য আমি চট্টগ্রাম শহর থেকে কক্সবাজার ট্রাভেল করার আগে বিস্তারিত জেনে নিতে বলছি।

নিচে আমরা একটি তালিকার মাধ্যমে ভাড়ার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরছি।

সিটের শ্রেণিভাড়ার পরিমাণ (টাকা)
শোভন চেয়ার১৮৫ টাকা
স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার)৩৫০ টাকা
এসি সিট৪২০ টাকা
এসি বার্থ৬৩৫ টাকা

(দ্রষ্টব্য: রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় এই ভাড়া পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে।)

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনের টিকিটের মূল্য ও আসন বিন্যাস

রেলপথে ভ্রমণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আপনি আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী আসন পছন্দ করতে পারেন। খুব কম খরচে ট্রেনে চলাচল করা যায়। বাংলাদেশের যত ধরনের যান চলাচল রয়েছে তারমধ্যে ট্রেনে চলাচল সবচেয়ে খরচ কম।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনের টিকিটের মূল্য নির্ভর করে আপনি কোন কোচে ভ্রমণ করছেন তার ওপর।

যেমন, আপনি যদি পরিবারের সাথে আরামদায়ক ভ্রমণ চান তবে ‘স্নিগ্ধা’ ক্লাস আপনার জন্য সেরা হবে।

অল্প বয়সী বন্ধু-বান্ধবদের গ্রুপের জন্য ‘শোভন চেয়ার’ সবসময়ই সাশ্রয়ী এবং জনপ্রিয়।

জানালা দিয়ে পাহাড় আর বনের দৃশ্য দেখতে দেখতে যাওয়ার অনুভূতি অন্যরকম এক শিহরণ তৈরি করে।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬

ভাড়া জানার পাশাপাশি ট্রেনের সময় জানাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে এই রুটে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ এবং ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ নিয়মিত চলাচল করছে।

সাধারণত এই ট্রেনগুলো ঢাকা থেকে ছেড়ে আসে এবং চট্টগ্রামে যাত্রা বিরতি দেয়।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পৌঁছাতে প্রায় ৩ থেকে ৩.৫ ঘণ্টা সময় লাগে।

সঠিক সময়সূচী এবং ট্রেনের অবস্থান সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে আপনি Trickstel.com-এর এই পোস্টটি ভিজিট করতে পারেন।

সেখানে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রতিটি ট্রেনের স্টপেজ এবং সময় দেওয়া আছে।

কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা

কক্সবাজার এক্সপ্রেস এই রুটের অন্যতম আধুনিক একটি ট্রেন। এই ট্রেনের ভেতরের পরিবেশ এবং সুযোগ-সুবিধা আপনাকে মুগ্ধ করবে। আমি চট্টগ্রামের ছেলে। বছরে কয়েকবার কক্সবাজারে ভ্রমণ করতে যায়। চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে যারা এই ট্রেনে ওঠেন, তাদের জন্য ভাড়ার তালিকা কিছুটা কম। শোভন চেয়ারের টিকিট সাধারণত ১৮৫ টাকা থেকে শুরু হয়। আমি বলবো এসি ট্রেনে না গিয়ে নন-এসি দিয়ে ভ্রমণ করুন। অনেক টাকা বাঁচবে।  আর প্রিমিয়াম সার্ভিস চাইলে এসি ক্যাবিন বা বার্থ নিতে পারেন, যা আপনাকে ক্লান্তিমুক্ত ভ্রমণ উপহার দেবে।

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম

এখন আর স্টেশনে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার দিন নেই। আপনি চাইলে ঘরে বসেই আপনার স্মার্টফোন দিয়ে টিকিট বুক করতে পারেন। প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা ‘Rail Sheba’ অ্যাপে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এরপর আপনার যাত্রা ও গন্তব্যস্থল নির্বাচন করে আসন পছন্দ করতে হবে। বিকাশ, নগদ বা কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করলেই আপনার ই-টিকিট তৈরি হয়ে যাবে। যাত্রার সময় এই ই-টিকিটের কপি বা মোবাইল স্ক্রিন দেখালেই আপনার কাজ হয়ে যাবে।

কেন ট্রেনে কক্সবাজার যাবেন?

বাসের তুলনায় ট্রেনে যাতায়াত করা অনেক বেশি নিরাপদ ও আরামদায়ক। ট্রেনে যানজটের কোনো ঝামেলা নেই, তাই নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। বিশেষ করে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে দোহাজারীর পরের বনের দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। ট্রেনের বড় জানালার পাশে বসে বাইরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখা এক অন্যরকম আবেগ। আমি না হয় আপনাকে আর অনুপ্রাণিত না করলাম। আপনি নিজে একবার ভ্রমণ করে দেখুন। আমার কাছে বিশেষ করে পরিবারের ছোট সদস্যদের নিয়ে ভ্রমণে ট্রেন সবসময়ই প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত।

পরিশেষে বলা যায়, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনের টিকিটের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই রাখা হয়েছে। তাই দেরি না করে আপনার প্রিয়জনদের নিয়ে সমুদ্র দর্শনের পরিকল্পনা সেরে ফেলুন। ভ্রমণের আগে টিকিট নিশ্চিত করতে অন্তত ৩-৪ দিন আগে অনলাইনে চেক করুন। আপনার যাত্রা শুভ এবং নিরাপদ হোক। ঠিক আছে?

আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করে তুলবে। আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করতে পারেন। আমি সবসময় আছি আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে।

মোটরসাইকেল ট্যাক্স টোকেন নবায়ন ফি কত টাকা বিস্তারিত জানার জন্য এখানে প্রবেশ করুন।

Leave a Comment