
ফুসফুসের প্রদাহকে কি বলে?
মেডিকেলের ভাষায় ফুসফুসের যেকোনো ধরনের তীব্র ইনফেকশন বা টিস্যুর ভেতরের ফোলাকে আমরা নিউমোনিয়া বা পালমোনারি ইনফ্লামেশন বলি।
আমাদের ফুসফুস মূলত স্পঞ্জের মতো দুটি নরম অঙ্গ। যখন ক্ষতিকর কোনো জীবাণু এই স্পঞ্জের মতো অংশে আক্রমণ করে তখন সেখানে পানি জমে যায়। যেমন একটি পরিষ্কার স্পঞ্জে পানি ঢাললে সেটি ভারী হয়ে যায় এবং বাতাস ধরে রাখতে পারে না।
ঠিক তেমনি ফুসফুসে তরল জমলে আমাদের ফুসফুস তার বাতাস ধরে রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এটি সাধারণত ফুসফুসের টিস্যুর রোগ যা ফুসফুসকে পুরোপুরি প্রসারিত হতে বাধা দেয়।
ফুসফুসের প্রদাহের লক্ষণ
ফুসফুসে ইনফেকশন বা প্রদাহ হলে শরীর কিছু আগাম সংকেত দিতে শুরু করে।
সবচেয়ে সাধারণ ফুসফুসের প্রদাহের লক্ষণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
-
বুকে তীব্র ব্যথা হওয়া যা বিশেষ করে গভীর শ্বাস নেওয়ার সময় বা কাশির সময় বেড়ে যায়।
-
অনবরত কাশি হওয়া এবং কাশির সাথে হলুদ বা সবুজ রঙের ঘন কফ বের হওয়া।
-
সামান্য হাঁটাচলা করলেই অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট হওয়া বা হাপিয়ে ওঠা।
আপনার পছন্দ হতে পারে:কাচ্চি বিরিয়ানি মসলা লিস্ট | বাবুর্চিদের রেসিপি বানানোর নিয়ম -
কাঁপানি দিয়ে উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর আসা এবং শরীর অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া।
-
কোনো কাজ না করেই সবসময় শরীরে চরম ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করা।
-
খাবার খাওয়ার প্রতি অনিচ্ছা বা ক্ষুধা মন্দা তৈরি হওয়া।
নিউমোনিয়া কি ও কেন হয়?
এখন প্রশ্ন আসতে পারে নিউমোনিয়া কি ও কেন হয় এবং এর পেছনে মূল দায়ী কারা?
নিউমোনিয়া হলো ফুসফুসের এক ধরণের তীব্র সংক্রমণ। এটি সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস কিংবা ফাঙ্গাসের আক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। আমাদের চারপাশে থাকা স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনি (Streptococcus pneumoniae) নামের ব্যাকটেরিয়া এই রোগের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। তাছাড়া সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস বা করোনা ভাইরাসের কারণেও ফুসফুসে এই প্রদাহ হতে পারে।
যারা নিয়মিত অতিরিক্ত ধূমপান করেন তাদের ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে বাইরের সাধারণ জীবাণুও খুব সহজে তাদের ফুসফুসে সংক্রমণ তৈরি করতে পারে। আবার অনেক সময় অস্বাস্থ্যকর ও অতিরিক্ত ধুলাবালিময় পরিবেশে কাজ করার কারণেও ফুসফুস ড্যামেজ হতে শুরু করে।
ফুসফুসে ইনফেকশন হলে কি করনীয়?
যদি কখনো আপনার বা আপনার পরিবারের কারো মধ্যে এই লক্ষণগুলো দেখা যায় তবে ঘরে বসে থাকা একদম ঠিক হবে না।
অনেকেই বুঝতে পারেন না ফুসফুসে ইনফেকশন হলে কি করনীয় বা কখন হাসপাতালে যাওয়া উচিত।
-
প্রথম কাজ হলো কোনো ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে না খেয়ে একজন বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
-
ডাক্তাররা সাধারণত স্টেথোস্কোপ দিয়ে বুকের শব্দ শোনেন এবং নিশ্চিত হওয়ার জন্য বুকের এক্স-রে (Chest X-ray) বা রক্ত পরীক্ষা করতে দেন।
আপনার পছন্দ হতে পারে:কোন সূরা পড়লে চেহারা সুন্দর হয়, সৌন্দর্যের রহস্য জেনে নিন -
যদি ইনফেকশন সাধারণ মাত্রায় থাকে তবে ডাক্তাররা নির্দিষ্ট মেয়াদের অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দিয়ে থাকেন।
-
এই সময়ে রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার খেতে হবে।
-
কিন্তু রোগীর শ্বাসকষ্ট যদি খুব বেশি বেড়ে যায় এবং ঠোঁট বা নখ নীলচে হতে শুরু করে তবে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে অক্সিজেন থেরাপির ব্যবস্থা করতে হবে।
ফুসফুসের সংক্রমণ দূর করার উপায় এবং ঘরোয়া প্রতিরোধ
চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু নিয়ম মেনে চললে ফুসফুসের সংক্রমণ থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
ফুসফুসের সংক্রমণ দূর করার উপায় হিসেবে কিছু সহজ অভ্যাস আমরা দৈনন্দিন জীবনে গড়ে তুলতে পারি:
-
প্রতিদিন নিয়মিত হালকা গরম পানি বা আদা-তুলসি পাতার চা পান করলে বুকের কফ নরম হয়ে আসে।
-
দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার গরম পানির ভাপ বা স্টিম নিলে শ্বাসনালীর ভেতরের পথ পরিষ্কার হয়।
-
ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিন সকাল-বিকাল কিছু ব্রিদিং এক্সারসাইজ বা ফুসফুসের হালকা ব্যায়াম করা উচিত।
-
ঘরোয়া পরিবেশে ফুসফুস ভালো রাখার জন্য ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
-
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যেকোনো ধরনের ধূমপান বা পরোক্ষ ধূমপান (অন্যের সিগারেটের ধোঁয়া) থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকতে হবে।
আপনার পছন্দ হতে পারে:২০২৬ এ পরিবেশ দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ কি জেনে নিন
আমাদের ফুসফুস অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অঙ্গ।
সামান্য অবহেলা বা কাশির সমস্যাকে সাধারণ ঠাণ্ডা মনে করে বসে থাকলে তা পরবর্তীতে ফুসফুসের বড় ক্ষতি করতে পারে। তাই ফুসফুসের প্রদাহকে কি বলে তা জানা থাকলে আমরা শুরুতেই সচেতন হতে পারবো এবং সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারবো।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের মাধ্যমে আপনার ফুসফুসকে রাখুন সবসময় সুস্থ ও সতেজ।
ডায়রিয়া রোগের জীবাণুর নাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য এখানে প্রবেশ করুন।





