আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা, ইন্টারনেট আমাদের জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। আমরা এখন প্রতিদিন ইন্টারনেট ব্যবহার করি, এবং এর মাধ্যমে আমরা পৃথিবীকে আরও কাছ থেকে জানি। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন, ইন্টারনেটের সূচনা কোথায় এবং কে ছিলেন সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তি যারা এর জনক? আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানবো, “ইন্টারনেটের জনক বলা হয় কাকে?” এবং ইন্টারনেটের ইতিহাসের নানা দিক নিয়ে।
ইন্টারনেটের জনক: ভিনটন সার্ফ ও রবার্ট কান
ইন্টারনেটের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৬০-এর দশকে, কিন্তু এটি পুরোপুরি বিশ্বব্যাপী ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠে ১৯৮০ সালের দিকে। ইন্টারনেটের জনক হিসেবে যাদের নাম শোনা যায়, তারা হলেন ভিনটন সার্ফ এবং রবার্ট কান। এরা দুজনই “TCP/IP” প্রোটোকল তৈরি করেছেন, যা ইন্টারনেটের মূল কাঠামো হিসেবে কাজ করছে। ভিনটন সার্ফ এবং রবার্ট কান, দুজনেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী। তাঁরা মিলিতভাবে ইন্টারনেটের বিস্তার এবং উন্নয়নের জন্য কাজ করেছেন। ১৯৭০-এর দশকে যখন ইন্টারনেটের ধারণা প্রথম জন্ম নেয়, তখন TCP/IP প্রোটোকলটির ধারণা তাঁদের মাথাতেই আসে। এটি এমন একটি প্রোটোকল ছিল, যা একাধিক কম্পিউটারকে একসাথে সংযুক্ত করতে সহায়তা করেছিল। এই দুটি বৈজ্ঞানিক প্রটোকল ছাড়া আজকের ইন্টারনেট কল্পনাও করা যেত না। তাঁরা একেবারে পৃথিবীজুড়ে একটি বৃহৎ নেটওয়ার্ক তৈরির কল্পনা করেছিলেন, যা আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে।
ইন্টারনেটের বিকাশ ও তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া
১৯৭০-এর দশক থেকেই ইন্টারনেটের উত্পত্তি শুরু হয়। তখন এটি শুধু কিছু বিজ্ঞানী এবং গবেষকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে এটি কম্পিউটিং প্রযুক্তির উন্নতি ও আধুনিক যুগের প্রয়োজনীয়তার সাথে আরও বিস্তৃত হতে থাকে। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে ইন্টারনেট জনগণের কাছে পৌঁছাতে শুরু করে এবং ২০০০-এর পর এটি বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত একটি অপরিহার্য প্রযুক্তি হয়ে ওঠে। ইন্টারনেটের সাফল্য এবং তার বিস্তৃতির জন্য ভিনটন সার্ফ ও রবার্ট কান এর মধ্যে একযোগিতার ভূমিকা ছিল অসীম। তাঁদের তৈরি করা TCP/IP প্রোটোকল বিশ্বব্যাপী কম্পিউটারের সংযোগের পথ প্রশস্ত করেছে।
কেন ভিনটন সার্ফ ও রবার্ট কানকে ইন্টারনেটের জনক বলা হয়?
আপনি হয়তো ভাবছেন, কেন ভিনটন সার্ফ এবং রবার্ট কানকেই ইন্টারনেটের জনক বলা হয়? তাদের কাজের পরিসর ছিল ব্যাপক এবং তাদের অবদান ছাড়া আজকের ইন্টারনেটের কোনো অস্তিত্বই হত না। TCP/IP প্রোটোকলটি এমন একটি প্রযুক্তি ছিল যা ইন্টারনেটের একে অপরের সাথে সংযুক্ত সমস্ত কম্পিউটারের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম তৈরি করেছে। এ ছাড়া, তাঁরাই প্রথম “ইন্টারনেট” শব্দটির ব্যবহারের শুরু করেন। তাই, তাঁরা দুজনেই ইন্টারনেটের সঠিক জনক হিসেবে পরিগণিত হন। তাঁদের এই কাজ শুধু প্রযুক্তিগত দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং মানবিক দিক থেকেও এটি সমাজের যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
ইন্টারনেটের প্রযুক্তিগত ভিত্তি: TCP/IP প্রোটোকল
আজকের ইন্টারনেট যে ভাবে চলছে, তা সম্ভব হয়নি যদি না ভিনটন সার্ফ ও রবার্ট কান TCP/IP প্রোটোকল উদ্ভাবন করতেন। এটি এমন একটি যোগাযোগ প্রোটোকল যা কম্পিউটারের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানকে সহজ করেছে। TCP/IP ছাড়া ইন্টারনেটের ধারণা কোনোদিন আসত না। এই প্রোটোকলটি দুটি প্রধান কাজ করে: প্রথমত, এটি ডেটাকে ছোট ছোট প্যাকেটে বিভক্ত করে পাঠায়, দ্বিতীয়ত, এটি এই প্যাকেটগুলোকে সঠিকভাবে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে। TCP/IP প্রোটোকলের সাহায্যে পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন নেটওয়ার্ক একে অপরের সাথে সংযুক্ত হতে সক্ষম হয়েছে। একে বলতে পারেন ইন্টারনেটের শিরা-ধারা। এটি ছাড়া বিশ্বব্যাপী তথ্য বিনিময় সম্ভব ছিল না।
ইন্টারনেটের পিতৃপুরুষ: ভিনটন সার্ফ ও রবার্ট কানের অবদান
এখন প্রশ্ন আসে, কেন তাঁদের “ইন্টারনেটের পিতৃপুরুষ” বলা হয়? এর কারণ তাঁদের উদ্ভাবনী চিন্তাধারা এবং কঠোর পরিশ্রম। ভিনটন সার্ফ এবং রবার্ট কান এতটা কষ্ট করেছেন যাতে পৃথিবীজুড়ে কম্পিউটার এবং নেটওয়ার্কের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া সহজ ও সুবিধাজনক হয়। তাঁদের কাজ শুধু প্রযুক্তিগত নয়, মানুষের জীবনযাত্রার ধারাও পরিবর্তন করে দিয়েছে। আজ, এই দুই প্রযুক্তিবিদদের অবদানের ফলে আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীকে আরও কাছ থেকে জানি।
ইন্টারনেটের ভবিষ্যত
যদিও ইন্টারনেট আজকের দিনে অনেক দূর এগিয়ে গেছে, তবে তার ভবিষ্যত আরও উজ্জ্বল হতে চলেছে। বর্তমান যুগের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি হিসেবে ইন্টারনেট পরিচিত, যা বিশ্বব্যাপী তথ্যের আদান-প্রদানকে সহজ করে দিয়েছে। ভবিষ্যতে ইন্টারনেট আরও শক্তিশালী এবং গতিশীল হবে, এবং আরও নতুন নতুন উদ্ভাবন আসবে যা মানুষের জীবন আরও সহজ এবং সহজলভ্য করে তুলবে।
আমার সমাপনী বক্তব্য
আজকের দিনেও ভিনটন সার্ফ এবং রবার্ট কান-এর অবদান অবিস্মরণীয়। ইন্টারনেটের জনক হিসেবে তাঁদের নাম ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। ইন্টারনেটের প্রচলন ও বিকাশের পেছনে যাদের অবদান রয়েছে, তাদের সঠিকভাবে স্মরণ করা উচিত। এর মাধ্যমে আমরা জানি যে, প্রযুক্তির উদ্ভাবন কেবলমাত্র একটি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি বৃহৎ সামাজিক এবং মানবিক পরিবর্তনের সূচনা। আজকের প্রযুক্তি দুনিয়ায় ইন্টারনেটই একমাত্র গতি অর্জনের চাবিকাঠি।