বাংলাদেশে নকিয়া বাটন মোবাইল দাম 105 (Nokia 105) কত? জানুন এর বৈশিষ্ট্য, বর্তমান মূল্য, অনলাইন ও অফলাইন শপ থেকে কেনার গাইড, ব্যাটারি ব্যাকআপ ও রিভিউ। আমি ছোটবেলা থেকেই নকিয়া ফোনের নাম শুনে বড় হয়েছি। গ্রামে থাকাকালীন আমার বাবার প্রথম মোবাইল ছিল নকিয়া 1100, যেটা দিয়ে তিনি রাতের অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালাতেন। সময় বদলেছে, স্মার্টফোনের যুগ এসেছে, কিন্তু নকিয়া এখনো তার বাটন ফোন দিয়ে একদম ভিন্ন জায়গা ধরে রেখেছে। তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় মডেল হলো নকিয়া 105। আজ আমি বিস্তারিত বলবো এই ফোনের ফিচার, দাম, এবং কেন এই ফোন এখনো বাজারে সেরা বাটন মোবাইল হিসেবে টিকে আছে।
নকিয়া 105 (Nokia 105) এর মূল বৈশিষ্ট্য
যদি কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করে, “একটা বাটন ফোন কেনার জন্য কোনটা বেস্ট?” আমি দ্বিধা ছাড়াই বলব নকিয়া 105।
- ডিজাইন ও বডি কোয়ালিটি: ছোট, হালকা ও টেকসই। হাতে নিলে মজবুত ফিল দেয়।
- ডিসপ্লে: 1.8 ইঞ্চি QQVGA ডিসপ্লে। কল রিসিভ আর মেসেজ পড়ার জন্য যথেষ্ট।
- ব্যাটারি: 800 mAh ব্যাটারি, একবার চার্জ দিলে স্বাভাবিক ব্যবহার করলে ৩-৪ দিন চলে।
- নেটওয়ার্ক: 2G সাপোর্ট, কল করার জন্য একদম উপযুক্ত।
- অতিরিক্ত ফিচার: এফএম রেডিও, টর্চলাইট, কিছু প্রি-লোডেড গেমস (যেমন Snake)।
আমার অভিজ্ঞতা বলছে, যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করতে চান না বা দ্বিতীয় ফোন হিসেবে শুধু কল রিসিভের জন্য মোবাইল রাখেন, তাদের জন্য নকিয়া 105 পারফেক্ট।
বাংলাদেশে নকিয়া বাটন মোবাইল দাম 105
এখন আসল প্রশ্ন: নকিয়া 105 এর দাম বাংলাদেশে কত?
২০২৫ সালের হিসেবে এর অফিসিয়াল দাম বাংলাদেশে প্রায় ১,২০০ – ১,৪৫০ টাকা।
- অফলাইন দোকানে: অনেক সময় দাম কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।
- অনলাইন শপে: Daraz, Pickaboo, Robishop-এ প্রায় একই দামে পাওয়া যায়, তবে ডিসকাউন্ট অফারে দাম ১,০০০ টাকার কাছাকাছি নেমে আসে।
উদাহরণস্বরূপ, আমার এক বন্ধু অনলাইনে ফ্ল্যাশ সেলে মাত্র ৯৯৯ টাকায় এই ফোন কিনেছিল, যা ছিল সত্যিই দারুণ ডিল।
কেন নকিয়া 105 এখনো জনপ্রিয়?
নকিয়া 105 কেবল একটা ফোন না, বরং এটা একধরনের বিশ্বাসযোগ্যতা।
- ব্যাটারি লাইফ: বাজারে যত বাটন ফোন আছে, এর ব্যাটারি ব্যাকআপ অন্যতম সেরা।
- সহজ ইউজার ইন্টারফেস: বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে গ্রামের সাধারণ ব্যবহারকারীও খুব সহজে ব্যবহার করতে পারেন।
- বাজেট ফ্রেন্ডলি: দাম সাশ্রয়ী হওয়ায় কম আয়ের মানুষও কিনতে পারে।
- টেকসই: একবার পড়ে গেলেও সহজে নষ্ট হয় না।
যেমন, আমার মামা একজন কৃষক। তিনি এখনো নকিয়া 105 ব্যবহার করেন, কারণ স্মার্টফোনের চার্জ ফুরিয়ে গেলে এই ফোনই তাকে ভরসা দেয়।
প্রতিযোগী মডেলের সাথে তুলনা
বাংলাদেশে Symphony, Walton, Itel-এর মতো ব্র্যান্ডও বাটন ফোন তৈরি করছে। তবে তুলনা করলে দেখা যায়:
- Symphony বাটন ফোনের দাম কিছুটা কম, তবে টেকসই দিক থেকে নকিয়া এগিয়ে।
- Walton মোবাইল বাংলাদেশের লোকাল ব্র্যান্ড হলেও ব্যাটারি ব্যাকআপে নকিয়া 105 সেরা।
- Itel ফোনগুলোও সাশ্রয়ী, কিন্তু লং-টার্মে নকিয়ার মতো টেকসই নয়।
কোথায় কিনবেন নকিয়া 105?
আমি সাধারণত অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে কিনতে পছন্দ করি, কারণ সেখানে রিভিউ পড়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।
- অনলাইন শপ: Daraz, Pickaboo, Robi Shop – এখানে প্রোমোশনাল অফারে ভালো দাম পাওয়া যায়।
- অফলাইন শপ: মোবাইল মার্কেট বা নকিয়ার অনুমোদিত শো-রুম থেকেও কিনতে পারেন।
তবে সাবধান! বাজারে নকল নকিয়া 105 পাওয়া যায়। তাই সবসময় অফিসিয়াল রিটেইলার থেকে কিনুন।
নকিয়া 105 কেনার আগে যা মাথায় রাখবেন
- অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল ফোনের দাম আলাদা হতে পারে।
- অফিসিয়াল ফোন কিনলে ১ বছরের ওয়ারেন্টি পাবেন।
- কেনার আগে IMEI চেক করে নিশ্চিত হয়ে নিন ফোনটি আসল কিনা।
আমার শেষ কথা
আমার কাছে নকিয়া 105 শুধু একটা ফোন না, বরং একটা নির্ভরযোগ্য বন্ধু। যখন স্মার্টফোন চার্জ শেষ হয়ে যায়, কিংবা গ্রামে নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকে, তখন এই ফোনই আমাকে ভরসা দেয়। যদি আপনি একটি বাজেট ফ্রেন্ডলি, টেকসই এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারির বাটন ফোন খুঁজে থাকেন, তাহলে নিঃসন্দেহে নকিয়া 105 আপনার জন্য সেরা চয়েস।
১. নকিয়া 105 এর দাম বাংলাদেশে কত?
👉 অফিসিয়ালভাবে প্রায় ১,২০০ – ১,৪৫০ টাকা। অনলাইন অফারে কম দামেও পাওয়া যেতে পারে।
২. নকিয়া 105 কি ডুয়াল সিম সাপোর্ট করে?
👉 হ্যাঁ, বর্তমানে Nokia 105 Dual SIM ভ্যারিয়েন্টও পাওয়া যায়।
৩. নকিয়া 105 কি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য উপযুক্ত?
👉 এটি মূলত কল ও মেসেজ করার জন্য। তবে দ্বিতীয় ফোন হিসেবে রাখা স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্যও উপযুক্ত।
৪. নকিয়া 105 এর ব্যাটারি কতদিন চলে?
👉 সাধারণ ব্যবহারে একবার চার্জে ৩–৪ দিন পর্যন্ত সহজেই চলে।
এই আর্টিকেলটি লিখে আমি শুধু তথ্য নয়, আমার অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেছি, যেন আপনি সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
নকিয়া 110 বাংলাদেশ প্রাইস সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য এখানে প্রবেশ করুন।

আমি Md. Thouhidul Islam একজন ডেডিকেটেড কন্টেন্ট রাইটার ও প্রযুক্তিপ্রেমী। আপনারা হয়তো আমাকে ইতিমধ্যে অনেকেই চিনেন। আমি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে প্রযুক্তি এবং শিক্ষা বিষয়ে নিখুঁত ও তথ্যবহুল কনটেন্ট তৈরি করছি।
জটিল পড়াশোনা, টেকনিক্যাল বিষয় ও ডিজিটাল ট্রিকসগুলোকে সহজ এবং সাবলীল বাংলায় পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করাই আমার একমাত্র মূল বৈশিষ্ট্য। প্রিয় পাঠক, আমি সবসময় কোনো প্রকার কপিপেস্ট ছাড়া গভীর গবেষণার মাধ্যমে পাঠকদের কাছে শতভাগ খাঁটি ও কার্যকরী তথ্য পৌঁছে দিতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আপনারা আমার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ!






